নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ব্যস্ত মোগরাপাড়া চৌরাস্তার মারীখালি সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরেই ময়লার স্তূপ গড়ে উঠেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এ সংযোগস্থলের নিচে অগভীর এক ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এলাকা, যেখানে দিনে দিনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, ময়লার দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ জনজীবন বিপর্যস্ত করেছে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। দ্রুত ময়লা অপসারণ ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহন করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা এনে এখানে ফেলা হয়। পচনশীল আবর্জনা থেকে বের হওয়া তীব্র দুর্গন্ধে পথচারী, ব্যবসায়ী ও এলাকার বাসিন্দারা চলতে এবং দাঁড়াতে পারছেন না। বৃষ্টি হলে ময়লার পানি ছড়িয়ে পড়ে, মশা-মাছি বেড়ে যায় এবং আশপাশের নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে। অনেকেই নাক-শ্রবণ রুমাল বা হাত চেপে সেস্থান পার হচ্ছে।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা মার্কেটের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, রমজান হাসান ও বিল্লাল হোসেন বলেন, এলাকায় এমন দুর্গন্ধে কাজকর্ম করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত কোরপরিষ্কার ও কার্যকর নজরদারি দাবি করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথ দিয়ে যাতায়াত করে, কিন্তু কয়েক মিনিট এখানে থাকা অসম্ভব। নদীর পানিও দুষিত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, প্রতিদিন ব্যাপকভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে, সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লার পাশে পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তিনি সতর্ক করেন যে খোলা স্থানে এমন বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ রক্ষার নীতিমালার লঙ্ঘন হচ্ছে এবং দ্রুত আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না হলে পরিস্থিতি χειρόতর হবে।
এই নিয়ে গত ১৮ জুন ময়লা অপসারণ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়দের সহযোগিতায়। অভিযানে কিছু ময়লা সরিয়ে ফেলা হয় এবং এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি দাবি করেছেন তারা বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দিয়েছে এবং ময়লার পাশে সাইনবোর্ড-ব্যানার লাগিয়ে মানুষকে সচেতন করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবু স্থানীয়রা বলছেন, অভিযানের পরও অবাধে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত ময়লা সমস্যাকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করে বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসন কাজ করছে। তিনি জানান, মূল প্রতিবন্ধকতা হল ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট ও পরিবেশ সম্মত জমির অভাব। তাই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি বড় প্রকল্প করে নির্ধারিত ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন ধাপে কাজ হবে—প্রথমে বর্তমান ময়লার স্তূপ পুরোপুরি অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার, দ্বিতীয় ধাপে নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাতে ফের কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, এবং তৃতীয় ধাপে উপজেলা পর্যায়ে একটি স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা। তিনি সময় লাগার কথা জানিয়ে আবার অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অনুরোধ, প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও দ্রুত স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা না হলে এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়বে। প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না গেলে সোনারগাঁর অন্যতম প্রবেশপথের সৌন্দর্য ও জনস্বাস্থ্য দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এমনটাই আশঙ্কা কর্মকর্তারা ও সাধারণ মানুষ উভয়েই ব্যক্ত করেছেন।