বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমদানিতে সুদের ঝুঁকি কমাতে ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি অনুমোদন

বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হারের আকস্মিক ওঠানামা থেকে আমদানিকারকদের সুরক্ষায় ‘ফরোয়ার্ড রেট’ চুক্তি চালুর ঐতিহাসিক অনুমোদন দিয়েছে। এই নির্দেশনা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরবরাহকারী ও ক্রেতার মধ্যে ইউজেন্স ভিত্তিক আমদানি—অর্থাৎ পণ্য গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় পর অর্থ পরিশোধ—লেনদেনে এখন থেকে আমদানিকারকরা ভবিষ্যৎ কোনো সময়ের জন্য সুদের হার আগাম নির্ধারণ (লক ইন) করে নিতে পারবেন। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হারের অস্থিতিশীলতা, অর্থাৎ SOFR-এর ওঠানামা থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি এভাবে অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হবে।

ফরোয়ার্ড রেট চুক্তি মূলত এক ধরনের হেজিং টুল; এর মাধ্যমে আমদানিকারক ও ব্যাংক নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ সময়ের জন্য সুদের হার স্থির করে নিতে পারেন, যাতে বাজারে মূল্য ওঠা-নামা তাদের ব্যয়কে অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ায় না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে এই ব্যবস্থাটি কেবল প্রকৃত আমদানি লেনদেনের ঝুঁকি প্রশমনেই ব্যবহার করা যাবে — অনুমতি নেই কোনো ধরনের জুয়া বা শুধু মুনাফার উদ্দেশ্যে চুক্তি ঘটানোর।

নিয়ন্ত্রক শর্তের মধ্যে ব্যাংকগুলোর জন্য মার্জিন নির্ধারণের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে ১০ বেসিস পয়েন্ট এবং কোনো ব্যাংক তাদের গত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের বেশি এই চুক্তির আওতায় আনতে পারবে না। এছাড়া ব্যাংকগুলো ওই চুক্তির বিপরীতে একই দিনই সমান্তরাল লেনদেনের মাধ্যমে নিজেদের বাজারঝুঁকি পুরোপুরি অফসেট করে নেবে — অর্থাৎ ব্যাংক নিজে খোলা বাজারঝুঁকি রাখবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানসম্মত চুক্তি কাঠামো গ্রহণ, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার দিকেও জোর দিয়েছে। চুক্তি যদি আগাম সমাপ্ত করা হয়, তা হলে তা প্রচলিত বাজারদরে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং সব রেকর্ড সংরক্ষণ অপরিহার্য করা হয়েছে।

বাজার অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে যখন SOFR ঘনঘন পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন এই ব্যবস্থাই আমদানিকারকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস বাজারের উন্নয়নকে এটি ত্বরান্বিত করবে এবং দেশের আমদানি বাণিজ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন