বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন আধুনিক শিশু গ্রন্থাগার তৈরি হচ্ছে জাতীয় জাদুঘরে জাপানি স্থপতির নকশায়

জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিশ্বের খ্যাতনামা জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শিশু গ্রন্থাগার নির্মাণ প্রকল্প underway। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তার সচিবালয়স্থ অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রজেক্টের প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠকে তারা শিশু গ্রন্থাগার ও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রী তাদাও আন্দো এবং জাপান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এই মহৎ প্রকল্পের জন্য প্রশংসা জ্ঞাপন করেন।

এই শিশু গ্রন্থাগারটি বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বের একটি চিরস্থায়ী নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হবে, যা আমাদের শিশুদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দূতাবাসের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকশিল্প এবং চারুকলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ আয়োজিত আন্তর্জাতিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে (এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল) জাপানের অংশগ্রহণের গুরুত্ব ও গৌরবের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরো জানান, সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ, জাদুঘর আধুনিকীকরণ, প্রত্নতত্ত্ব অনুসন্ধান, বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল বিনিময়, পাশাপাশি গ্রন্থাগার ও আর্কাইভের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জাপানের পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই, সংস্কৃতিমন্ত্রী জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে তার সফল কর্মকাল কামনা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে জাপান আমাদের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হয়ে এসেছে। অতঃপর, বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুটি দেশ অমূল্য সম্পর্কের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে, দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক খাতের সংস্কার অনুযায়ী ২০০৫ সালের সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির নবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। এ জন্য দু’দেশ একত্রে কাজ করার প্রস্তাব দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।

এছাড়াও, সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন