বলিউডে এখন জম্বি থ্রিলারের তরঙ্গ বয়ে যাচ্ছে। রোমান্স ও প্রচণ্ড অ্যাকশনকে চিনিয়ে রেখে এবার পরিচালক ও প্রযোজকরা দর্শককে জম্বি ভৌতিক কাহিনী দিয়ে মুগ্ধ করতে চাইছেন। আগামী কয়েক বছরে একের পর এক জম্বি ছবি দেখতে পাবেন সিনেমাপ্রেমীরা, আর সেই নিয়েই ইতিমধ্যেই উৎসাহ ছড়িয়েছে।
এই ধারার বড় লড়াইয়ে নামছেন বলিউডের সেরা কয়েকজন নায়ক—রণবীর সিং ও কার্তিক আরিয়ান। রণবীর সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’-এর পর নতুন চমক হিসেবে নিয়ে আসছেন ‘প্রলয়’—একটি জম্বি থ্রিলার, যা নোবেলজয়ী লেখক জোসে সারামাগোর ‘ব্লাইন্ডনেস’ উপন্যাসকে অনুপ্রাণিত করে জয় মেহতার পরিচালনায় তৈরি হচ্ছে। ছবিটি নিয়ে ভক্তদের আশা-আকাঙ্খা তুঙ্গে।
এরই প্রতিপক্ষ হিসেবে কার্তিক আরিয়ানও পিছিয়ে নেই। বিষ্ণুবর্ধনের निर्देशनাধীন একটি জম্বি প্রজেক্টে তিনি কাজ করছেন, যা ২০২৭ সালের শুরুতে মুক্তি পেতে পারে—ডেকান ক্রনিকলের খবর অনুযায়ী শুটিং শুরু হবে আগামী মাসেই। যদি সবটাই পরিকল্পনা মতো ঘটে, তাহলে রণবীর ও কার্তিকের এই দুই ছবির প্রতিযোগিতা বক্স অফিসে সরাসরি উত্তেজনা সৃষ্টি করবে।
শুধু রণবীর-কার্তিকই নয়, বলিউডের আরও নামী তারকারাও জম্বি ঘরানায় ঝুঁকছেন। আহমেদ খানের পরিচালনায় একটি জম্বি-কমেডিতে দেখা যাবে টাইগার শ্রফকে, আর তেলেগু হিট ‘জম্বি রেড্ডি’-র সিক্যুয়েলে কাজ করছেন তেজা সাজ্জা ও শানায়া কাপুর। এসব প্রজেক্টের ফলে ঘরানাটি দ্রুত শিল্পখাতে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।
জানতে হবে—ভারতে প্রথম জম্বি ঘরানার স্বাদ পেলেন দর্শক ২০১৩ সালের সাইফ আলি খানের ‘গো গোয়া গন’ থেকে, আর পরে নেটফ্লিক্সের ‘বেতাল’ সিরিজ আরও পরিচিতি এনে দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোরিয়ান ও হলিউডের জম্বি কনটেন্টের প্রভাব পড়ায় দর্শকের রুচিও বদলেছে; তাই নির্মাতারা ভেবেই চালাচ্ছেন—এই গল্পগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের বানানো না হলে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে টিকে থাকা কঠিন।
শেষ পর্যন্ত দর্শকই নির্ধারণ করবেন কারা জয়ী—রণবীর, কার্তিক নাকি টাইগার? জম্বি ঘরানার এই নবসূত্র বলিউডের ক্রিয়েটিভ মাপদণ্ডকে কীভাবে বদলাবে এবং সিনেমার বাজারে কতটা সমৃদ্ধি আনবে, সেটা সময়ই বলবে।