শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার তিন দেশ থেকে ১ লাখ ৮৫ হাজার টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত, খরচ ১,৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা

দেশের কৃষি উৎপাদন বজায় রাখা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরক্কো, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ আমদানির জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা।

বুধবার (১৫ জুলাই) অর্থমন্ত্রকের আওতাভুক্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ (সিসিজিপি) কর্তৃক এক বৈঠকে তিনটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আমদানি করা সারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আসবে মরক্কো থেকে। গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট (জি-টু-জি) চুক্তির মাধ্যমে মরক্কোর প্রতিষ্ঠান ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে দুই ধাপে মোট ৬০ হাজার মেট্রিক টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) আমদানি করা হবে। প্রথম লটে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন (±১০%) টিএসপি কেনার জন্য নির্ধারিত মূল্যে প্রতি টন ৬৮৮ মার্কিন ডলার এবং এ লটের মোট খরচ হিসেব করা হয়েছে প্রায় ২৫৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় লটেও ৩০ হাজার মেট্রিক টন (±১০%) টিএসপি কেনা হবে, যার প্রতি টন মূল্য ৭২৬.৩৩ মার্কিন ডলার ধরে মোট খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২৬৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সৌদি আরব এবং রাশিয়া থেকেও বড় পরিমাণ ইউরিয়া সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া আনা হবে। এই দুটি চালান মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১১৩ কোটি টাকারও বেশি।

সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, এই সরবরাহ নিশ্চিত হলে দেশের বাজারে ইউরিয়ার চাহিদা মেটাতে সহায়তা মিলবে এবং সার সংকটে কৃষকরা সমস্যায় পড়বেন না। বিশেষত আসন্ন আমন ও রবি মৌসুমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্রস্থ কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।

অন্তররাষ্ট্রীয় বাজারে সার-দামের ওঠানামা থাকলেও সরকার সময়মতো সাশ্রয়ী মূল্যে সার সংগ্রহে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে—যাতে বপন মৌসুমে সারের অভাব না হয় এবং উৎপাদন ব্যাহত না হয়। কৃষি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, দেশীয় উৎপাদন সীমিত হওয়ার কারণে বার্ষিক চাহিদার বড় অংশই আমদানি করতে হয়; সময়মতো বড় চালান নিলে কৃষকেরা নির্ধারিত সময়ে তাদের চাষাবাদ নির্বিঘ্নে করতে পারবেন।

সরকারি পর্যায়ে এখন আমদানিকৃত সারগুলো দ্রুত বন্দরের মাধ্যমে দেশে আনা এবং বাজারদর অনুযায়ী বিতরণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন