বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারতে তৈরি হচ্ছে আধুনিক এলএইচবি কোচ

বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা ও যাত্রীসেবা মান উন্নত করতে ভারতীয় কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) প্রথমবারের মতো ১৯টি আধুনিক এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ তৈরি করেছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) এই বিশেষ রেকটি আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হবে। ভারতের সরকারি মাধ্যম পিআইবির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই প্রথম দফায় তৈরি হওয়া কোচগুলোতে থাকছে তিনটি এসি স্লিপার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, এগারোটি নন-এসি চেয়ার কোচ এবং দুটি পাওয়ার কার। মূলত বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীর চাহিদা ও কারিগরি প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এসব কোচের নকশা এবং অভ্যন্তরীণ সুবিধাগুলো পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাত্রী ভ্রমণে আরামদায়কতা নিশ্চিত করতে এখানে উন্নতমানের রিক্লাইনিং চেয়ার, স্টেইনলেস স্টিলের বিশেষ আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্ট ব্যবহৃত হয়েছে। নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধার দিকে নজর রেখে, এসি কোচগুলোতে রয়েছে সিসিটিভি নজরদারি, যাত্রী অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শিশুদের জন্য আলাদা পরিচর্যা কক্ষ, এবং বিশেষ নামাজের কক্ষ। বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও পরিচালনাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কোচের ছাদকেও শক্তিশালী করা হয়েছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এই কোচগুলোতে ইউরোপীয় সুরক্ষা মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করা হয়েছে, যাতে সংঘর্ষের সময় যাত্রীরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পান। এই মান সম্পন্ন নির্মাণে কোচের মূল কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারিগরি দিক থেকেও বিশেষত্ব থাকছে, কারণ ভারতের রেলের প্রথাগত ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা অনুযায়ী এখানে ৪১৫ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫-১৬ সালে আরসিএফ বাংলাদেশকে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ সরবরাহ করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে নতুন করে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ তৈরির অর্ডার দিয়েছে। এখন প্রকাশিত এই ১৯টি কোচের চালানটি সেই অর্ডারের প্রথম কিস্তি। আশা করা যাচ্ছে, এই নতুন কোচগুলো রেলে বাংলাদেশের যাত্রী পরিবহনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন