বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে, ঘোষণা চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট রাত। সরকারি দলের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি; প্রধানমন্ত্রী লোগো প্রকাশের দিনই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ ভবনে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের আসন এবং বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোটের দৃশ্য সরাসরি গণমাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে। ভোটের পর ব্যালট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সকল কার্যক্রমও সরাসরি সম্প্রচারের আওতায় আনা হবে।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদে মোট ৩৪৯ জন ভোটার থাকবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি সব ভোট দেওয়া শেষ হয়, তবে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। তবে যদি কিছু ভোট বাকী থাকে, বিকেল ৫টার পর ফলাফল ঘোষণা আরও কিছু সময় অপেক্ষা করবে।

চিফ হুইপ আরও জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তারা দায়িত্বে থাকবেন এবং সংসদ সচিবালয় তাদের সহায়তা করবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন, এই অনুচ্ছেদটি সংশোধন না হওয়ায় বলছে, এটি কার্যকর থাকবে।

একই সঙ্গে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হওয়ার কথা জানান তিনি।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলের জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। গণতন্ত্রের স্বার্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন বলে মনে করে বিরোধী দল ভোট দিতে প্রার্থী দিয়েছে।

বিরোধীরা চান, নির্বাচনটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হতে না পারে। তাই তারা প্রার্থী দিয়েছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

পরে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদে ৭০ অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত চারটি বিষয়সহ বেশ কিছু সারসংক্ষেপ রয়েছে, যা বাস্তবায়নের বিষয় নিশ্চিত করেছেন। আইনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও যাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে, যাতে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে পারে এবং ফলাফলে সন্তুষ্টি লাভ করে।

সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি জানান, এর জন্য আলাদা কোনো সংসদ গঠন প্রয়োজন নেই। ভারতের মতো বাংলাদেশেও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান গ্রহণের পর থেকে ২০২৪ সাল নাগাদ ১০৬ বার সংশোধিত হয়েছে, যেহেতু মূল সংবিধানে বদল আনা হয়নি, সেহেতু বাংলাদেশেও প্রয়োজনীয় সংস্কার হবে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেভাবে লেখা রয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। সকলের সম্মতিতে স্বাক্ষর করা এই সনদটি আমাদের অঙ্গীকার।

পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে একটি নতুন বিল আনা হবে যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, গণতন্ত্রের সম্মান বজায় রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান।

পোস্টটি শেয়ার করুন