সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে বাংলাদেশ অনুকূল পরিবেশ চায়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের আগের পর্যায়ে, বাংলাদেশ সরকার নতুন করে একটি ইতিবাচক ও সহযোগীতামূলক পরিবেশ তৈরির জন্য भारतকে আহ্বান জানিয়েছে। আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ও জনকূটনীতি অনুবিভাগের মুখপাত্র একেএম শহীদুল করিম। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই সফর সফলভাবে সম্পন্ন করতে হলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা জোরদার করতে হবে, বিশেষ করে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে, আলোচনায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশ এইসব বিষয়ে স্পষ্ট এবং দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, শরীফ ওসমান হাদির হত্যা মামলার অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া, বাংলাদেশের জন্য সন্দেহজনক পরিস্থিতির কারণ হয়ে উঠতে পারে এমন একাধিক বিষয়ও নজরে রাখা হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের परिणाम কিছুটা শিথিলতার সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। শহীদুল করিম আরও জানিয়েছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই সফর সফল করতে হলে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

একই সঙ্গে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য অপরাধীদের দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে বলেছে। ঢাকার পক্ষ এখন ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে, শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রত্যাশা স্পষ্ট।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে অটুট থাকায়, দেশসেবার পাশাপাশি সার্বভৌম স্বাধীকার এবং মর্যাদা রক্ষা করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার পাশাপাশি, বিচারবহির্ভূত অপরাধীদের ফেরত পাওয়া বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। এই জন্যই বাংলাদেশ যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন