সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর গণমুখী ও সংস্কারধর্মী পদক্ষেপে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশের গণমুখী ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ আজ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট সমরচার্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা ও ন্যায্য উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার, যা দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকার মূলত জনগণের কাছে সম্পৃক্ত ও নির্ভরযোগ্য, তাদেরই ভোটে নির্বাচিত সরকার বলে জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি মনে করেন, ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অন্ধকার সময়ের মধ্যে দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার ও স্বার্থের জন্য সংগ্রাম করেছে, যেখানে অবাধ ভোটের জন্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন এই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার গত ৬ মাসে নানা সফলতা অর্জন করেছে। নির্বাচনের প্রথম দিন থেকেই কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদে-আসলে ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রায় ১৩ লাখ কৃষকের উপকারে এসেছে। একই সঙ্গে নারীদের ক্ষমতায়ন ও গৃহস্থালি আয় বাড়ানোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়, যা বর্তমান সমাজে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা তাদের সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের ক্ষুদ্র ব্যবসায় অর্থ ব্যয় করছেন। ধর্মীয় নেতাদের জন্য ভাতা চালু, খাল খনন, বৃক্ষমেলা ও পরিবেশসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিই এর যথার্থ উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগগুলো গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, নারীর স্বনির্ভরতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় সরকার মার্কিন ও চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে বিকল্প গ্যাস ও জ্বালানি উৎস নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এই সংস্কার গেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমবাজারের বিষয়ে মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, খুব দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের কর্মীেরা সেখানে কাজের সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি অন্যান্য দেশের জন্যও দক্ষ শ্রমিক রপ্তানি সহজ হবে। জাপান, ওমান ও মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও ইউরোপের বাজারে শ্রমিক পাঠানোর নতুন পরিকল্পনাও এগিয়ে চলেছে। গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে বলেন, গত ৬ মাসে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে উন্নত হয়েছে। সরকার রাজনৈতিক চাপ বা সমালোচনার মুখেও ধৈর্য্য ধারণ করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সেবামুখী করার কাজে লাগানো হচ্ছে। অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। বাইরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে, তিনি বলেন, আমাদের মূলনীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশের পাশাপাশি ভারতের মতো বৃহৎ প্রতিবেশীর সঙ্গে সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে মূলতঃ কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের স্থায়িত্বে নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষণে, তিনি দেখিয়েছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আইনি প্রক্রিয়া ভারতীয় সরকারের সহযোগিতায় চলেছে। আর্থিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগে বলিষ্ঠ পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোতে যাচ্ছে। ব্যবসা সহজীকরণ, বন্দরের ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস, অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে শুল্কের ছাড়সহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। মাহদী আমিন মনে করেন, সরকারের সততা, সদিচ্ছা ও দায়বদ্ধতা ভলিউমে উন্নয়ন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে এক সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চলেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন