সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী বললেন, বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র করে গড়ে তুলবে তার সরকার

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক বিশেষ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। আজ রবিবার সকালে মির্জাপুর এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদে এই কার্যক্রমটি সম্পন্ন হয়, যেখানে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের গুরুত্বারোপ করেন। বক্তৃতায় তিনি বললেন, ‘আজ যে মাছগুলো এখানে অবমুক্ত করা হলো, যখন তারা বড় হবে, ডিম পাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে প্রবেশ করবে, তখন কার উপকার হবে? লন্ডনের মানুষদের নাকি জাপানের? না, নিশ্চয়ই বাংলাদেশের মানুষের উপকার হবে।’ প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দেশের মূল লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বললেন, ‘বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো গরীব ও গ্রামের মানুষের কল্যাণ। গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে তাদের লক্ষ্য অবিচ্ছিন্ন।’ বিগত নির্বাচনে বিপুল সমর্থন পেয়ে বিজয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি দেশবাসীর জন্য, গরীব, শ্রমজীবী মানুষের জন্য। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে পারলেই বাংলাদেশ একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হয়ে উঠবে।’ এর পাশাপাশি তিনি কৃষি ও মৎস্য খাতে সমন্বিত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘খাল খননের প্রকল্পটি ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছে। ইতোমধ্যেই সারা দেশে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা থেকে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। খালগুলোৎ পানি এতটাই বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী হবে, যাতে কৃষি সেচ, মাছের উৎপাদন—সবই উন্নত হবে।’ তিনি আরো বললেন, ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের অন্যান্য নদী ও বড় খালগুলোতেও মৎস্য পোনা অবমুক্ত করার পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। নারীদের উন্নয়নের দিকেও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘অর্ধেক জনসংখ্যা হলো নারী। তাদের পিছিয়ে রাখা মানে পুরো দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষাকে বিনামূল্যে করে দেওয়া অভূতপূর্ব পদক্ষেপের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুললে তিনি বলে থাকেন, তাঁরা দেশের উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হবেন। এভাবেই একটি সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তাঁরা নির্ধারিত করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে করতালি ও হর্ষধ্বনি দেন, যার কারণে পুরো পাকুন্দিয়ায় এক উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা।

পোস্টটি শেয়ার করুন