বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধের জন্য কার্যকর রোডম্যাপের আহ্বান

দেশে যাতে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে এবং কেউ যেন নতুন করে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু বিরোধিতার নামে বিরোধিতা না করে, দেশের উন্নয়ন ও সব মানুষের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আজ বুধবার বনানীর হোটেল শেরাটনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান এবং আরও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও ব্যাংক কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত এবং রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ১৪০০ মানুষ নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছে। তিনি দুঃখের সাথে উল্লেখ করে বলেন, যাদের চোখের আলো রয়েছে, তারা এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ও অবিচার দেখেও কিছু বলছেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আপনাদের চোখগুলো খুলে আসুক, অন্তরের চোখেও আলো আনতে হবে। অন্ধকে আলো দেখানোর মতো মহৎ কাজ আর কিছু হয় না।’

তিনি আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি সমাজের মনোযোগ ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকাশে আরও কী উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। এই সমাজহীন ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকারের নানা পরিকল্পনার প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অংশবিশেষ স্মরণ করে আসাদুজ্জামান বলেন, ক্রসফায়ারের নামে রাতের অন্ধকারে অসংখ্য মানুষ হত্যা ও তাদের স্বজনের নিখোঁজের বিষয়ে এখনও বহু অজানা তথ্য রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই ধরনের অবহেলাক্রান্ত মানসিকতা ও মানবতার অপমানকারী কর্মকাণ্ড নৈতিক অবক্ষয়ের পক্ষপাত। তিনি বলে ওঠেন, ‘সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অপরাধের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সব নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। ভুল করলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে।’

তার শেষ কথা হিসেবে, তিনি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি দেশের প্রতিষ্ঠা হবে যেখানে ফ্যাসিবাদ আর কোনও স্থান পাবে না। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যেখানে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও রচনা প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠদের পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী।

পোস্টটি শেয়ার করুন