মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ‘নাস্তিকবিরোধী’ বিক্ষোভ, ধর্মবিদ্রোহ আইনের দাবি

‘নাস্তিক্যবাদী’ লেখক, ব্লগার এবং সংশ্লিষ্ট ব্লগ-ম্যাগাজিনগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সিলেটের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সিলেটের ধর্মপ্রাণ মুসলিম উম্মাহ” নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সিলেট সদর, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, বড়লেখা, কুলাউড়া এবং বিয়ানীবাজার সহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এই সমাবেশে হেফাজতে ইসলাম, বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং অন্যান্য ইসলামী দলের নেতাকর্মীরা যোগ দেন।

সমাবেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে কথিত ধর্মবিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বক্তারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের শাস্তির জন্য অবিলম্বে “ধর্মবিদ্রোহ আইন” প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

দিনভর নাস্তিক বিরোধী স্লোগানে এলাকাগুলো মুখরিত ছিল বলে জানা গেছে। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই সমাবেশ সরকারের কাছে একটি বার্তা যে, বাংলাদেশে ইসলাম বিরোধী এজেন্ডা আর চলতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ মুসলমানদের মাটি, এখানে নাস্তিকদের স্থান নেই।”

তিনি মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ মহিউদ্দিন, ইশতিয়াক আহমেদ, আরিফ জেবতিক, দৃষ্টি দে, জাহাঙ্গীর আলম, শাহরিয়ার কবির, আসাদ নুর, সুব্রত শুভ, সৈয়দা মহসিনা ডালিয়া সহ বেশ কয়েকজন লেখকের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, “এই মুষ্টিমেয় ব্লগাররা প্রতিনিয়ত ইসলামের নামে কুৎসা রটাচ্ছে।” তিনি নতুন সরকারের কাছে ধর্মবিদ্রোহ আইন প্রণয়ন করে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

সিলেট বিভাগ হেফাজতের আমির মুফতি মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী বলেন, “এটি ৩৬০ আউলিয়ার দেশ, এখানে নাস্তিকদের জন্য কোনও স্থান নেই।… আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহবান জানাচ্ছি তাঁরা যেন দ্রুত সমাজের এই নাস্তিক কীট গুলোকে কঠিন শাস্তি দেন।”

একই বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক এমরান শিকদার বলেন, “একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে এই নাস্তিকদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। এই নাস্তিকরা আমাদের ইসলাম সম্প্রদায়কে হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত এই ব্লগার ও নাস্তিক্যবাদী ওয়েবসাইটগুলোর বিরুদ্ধে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।”

আমাদের সংবাদ প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমাবেশস্থলগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন