শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পিকার দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগপত্র দিতে হবে

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তিনি থাইল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন। দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তিনি সই করে একটি পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করবেন। স্পিকারের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই অর্থাৎ শুক্রবার দুপুর ১২:৪০ মিনিটে বলে জানা গেছে।

রয়টার্সের সংবাদে বিশেষ করে বলা হয়েছে, বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে, সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলম রয়টার্সকে নিশ্চিত করে জানান, “স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে ফিরতেই তিনি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র দিয়ে যাবেন।” বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর করতে হলে স্পিকারকে তার স্বাক্ষরসহ পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। এ কারণেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দ্রুত দেশে ফিরে আসার বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচিত ও আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

১১ জুলাই ব্যাংকক যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২৬ জুলাই তিনি ঢাকায় ফিরবেন। তবে, তিনি বর্তমানে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:৪০ মিনিটে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকাছাড়েন বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, মো. সাহাবুদ্দিন ইতিমধ্যেই পৃথকভাবে পদত্যাগের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েছেন। এমনকি, বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে তিনি তার প্রস্তাবিত বিদায়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রকাশ্যে আলোকপাত করেছেন।

রয়টার্সের আরও খবর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের চাপ আনা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে 공식 কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, “রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন, তবে এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।”

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত একটি প্রার্থনা পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর, পদ খালি হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ীভাবে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ এ বিষয়ে বলা হয়েছে, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এই আইন অনুযায়ী, এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জল্পনা থাকলেও, ধারণা হচ্ছে বিএনপির নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলের প্রার্থীর বিজয় বেশ সম্ভাবনাময়। এই তালিকায় বিশেষভাবে আলোচিত নাম হলো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মঈন খান। অন্যদিকে, সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ সচিব বা সাবেক পদস্থ আমলার নামও আলোচনায় রয়েছে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ব্যাপক প্রতিবাদ বা অভ্যুত্থানের পর থেকে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণঅভ্যুত্থান দমন কোঠায় বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবনহানি ঘটাতে সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে এই বড় পরিবর্তনকে এক ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন