টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জমকালো ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রনের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লো ভারত। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গত রবিবার অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার টাইটেল জিতল এবং মোট মিলিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল রেকর্ড তৃতীয়বার। মাঠে দলীয় সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যও ছড়িয়েছে—টুর্নামেন্ট সেরা হিসেবে সম্মান পেয়েছেন হার্ডহিটার ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসন।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাট হাতে রাজত্ব করেছেন স্যামসন। মাত্র পাঁচটি ম্যাচে প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে তিনি ৩২১ রান করেছেন, যা তাঁকে প্রতিযোগিতার তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত করেছে। দলের বিপদে হাত ধরেন, শুরু থেকেই আক্রমণ চালিয়ে বোলারদের ওপর ডুরেক্ট চাপ সৃষ্টি করেন—এই ধারাবাহিক ও মারমুখী ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ ট্রফি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। স্যামসনের এখানে থাকা মানে ছিল ভারতীয় মিডল অর্ডারে সাহস আর বিশ্বাস দুটোই।
ফাইনালে জয় নিশ্চিত করতে নির্ধারক ভূমিকা ছিলেন পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে সর্তক করে তিনি ৪ ওভার খেলে মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের একইসঙ্গে লেগাসি গড়লেন। তাঁর বলবদলে কিউই ব্যাটিং ভেঙে পড়ে এবং ম্যাচের ছন্দ ভারতদলের পক্ষে চলে আসে। পুরো টুর্নামেন্টে বুমরাহ ও স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর প্রত্যেকেরই ১৪টি করে উইকেট ছিল—নিঃসন্দেহে এরা যৌথভাবে আসরের সফলতম বোলার হিসেবে নিজেদের প্রত্যয়দর্শন করেছেন।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায়। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে নিয়মিতভাবে উইকেট হারাতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রানে অলআউট হয়। ৯৬ রানের এই বড় জয় ভারতের জন্য কৌশলগত ও মানসিক উভয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বয়ে আনে।
২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে জয়ী হওয়ার পর ১৭ বছরের ব্যবধানে গতবার ভারত ট্রফি জিতে ছিল; এবার টানা দুইবার শিরোপা জিতে নীল বাহিনী বিশ্ব ক্রিকেটে আবারও তাঁদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্থান নিশ্চিত করেছে। আজকের এই শিরোপা ভারতের ধারাবাহিকতা, দলগত গভীরতা আর ব্যক্তিগত প্রতিভার প্রতিশ্রুতি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





