মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে ১০ দিন পর চট্টগ্রামে প্রথম ডিজেল ট্যাংকার, এক সপ্তাহে আরও চারটি আসবে

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার ১০ দিন পর সোমবার (৯ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে প্রথম ডিজেল ট্যাংকার। সিঙ্গাপুর থেকে আগত ‘শিউ চি’ নামের ওই জাহাজে রয়েছে ২৭,২০৪ টন ডিজেল। শিপিং ট্রাফিক মনিটরিং সাইট মেরিন ট্রাফিক বলছে, ট্যাংকারটি বর্তমানে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে।

বন্দর ও শিপিং এজেন্ট সূত্র জানায়, এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ট্যাংকার চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে। ওই পাঁচটি ট্যাংকারে মোট মজুদ করা আছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন পরিশোধিত ডিজেল। এসব জাহাজ থেকে পালাক্রমে খালাস শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম।

আসার সূচি অনুযায়ী সিঙ্গাপুর থেকে আজ রাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের ট্যাংকারে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল। আগামী বৃহস্পতিবার পৌঁছাবে ‘এসপিটি থেমিস’—এটিতে রয়েছে ৩০,৪৮৪ টন। পরের শনিবার ‘র‌্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চ্যাং হ্যাং হং টু’ দুই জাহাজ একই সময়ে বন্দরে এসে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল আনবে।

এই জ্বালানি চালানগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ—আতঙ্কজনিত কেনাকাটার কারণে দেশে সম্প্রতি ডিজেলের চাহিদা বেড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে মজুদ ধরে রাখতে সরকার ডিজেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হিসাব অনুযায়ী দেশের স্বাভাবিক দৈনিক ডিজেল দাবী প্রায় ১২ হাজার টন। এই পাঁচটি ট্যাংকারের ডিজেল দেশে পড়লে সাধারণ চাহিদা প্রায় ১২ দিনের জন্য মেটানো যাবে।

এছাড়া বিপিসি জানিয়েছে, গত রোববার থেকে ডিজেল সরবরাহ দৈনিক কমিয়ে ৯ হাজার ০২২ লিটার করে দেওয়া শুরু হয়েছে—এই ব্যবস্থা থাকলে মজুদ দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে মজুদ থাকা ডিজেলও প্রায় ১৬–১৭ দিন চলবে। মিলিয়ে বলা যায়, সামনে এক মাসের চাহিদার সমপরিমাণ ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে বলেই চিত্রটা দেখা যাচ্ছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল; এর বেশির ভাগই সরাসরি আমদানি করে পূরণ করতে হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরিসংখ্যান জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৯টি দেশ থেকে আমদানি হয়েছে ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন ডিজেল। এর মধ্যে ৭৮ শতাংশ সরবরাহ এসেছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে; মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ থেকে এ সময় কোনো ডিজেল আমদানি হয়নি।

পরবর্তী দিনগুলোতে কবে কী পরিমাণ খালাস হবে এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কিভাবে শুরু হবে—এসব বিষয়ে বন্দরের কর্মকর্তারা ও শিপিং এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পোস্টটি শেয়ার করুন