মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালি হাতে এশিয়ান কাপ থেকে বিদায় নিল বাংলােদেশের নারী ফুটবল দল

প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলতে নামে বাংলােদেশ নারী ফুটবল দল, তবে শেষ পর্যন্ত হারের গ্লানি নিয়ে টুর্নামেন্ট ছেড়ে যেতে হয় তাদের। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে দলটি। আজ সোমবার উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হয়ে ৪-০ গোলে পরাজিত হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধি দল। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারলেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আগের ম্যাচের চেয়েও অনেক বেশি লড়াকু ও ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে গত ম্যাচের তুলনায় অনেক উন্নতি দেখান। তবে তিনটি ম্যাচে সব হার বস্তুত তাদের পয়েন্টের শূন্যতা নিশ্চিত করে এবং তারা শূন্য হাতে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। এতে অস্ট্রেলিয়ার দল কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই উজবেকিস্তান দলের অগ্রজরা গতির লড়াইয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চেষ্টা করে। মাত্র ১০ মিনিটে গোল হজম করে তারা পিছিয়ে যায়। তবে এই ধাক্কা কাটিয়ে দলটি মানসিকভাবে লড়াই চালিয়ে যায়। বিশেষ করে ঋতুপর্ণা চাকমা বেশ কিছু দুর্দান্ত আক্রমণে সতীর্থদের শক্তি জুগিয়েছেন। চীনের বিপক্ষে ম্যাচের মতোই আজও তিনি বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক শট নিয়েছিলেন, যা গোলের খুব কাছাকাছি ছিল, কিন্তু উজবেকিস্তানের গোলরক্ষকের অসাধারণ ডোকার মাধ্যমে বল রক্ষা পায়। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ রক্ষণভাগ শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় এক গোলের ব্যবধানে বিরতিতে যায় দলগুলি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাংলাদেশ কিছু সময় প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়। গোলরক্ষক মিলি আক্তার টুর্নামেন্টের অন্যান্য ম্যাচের মতো আজও অসাধারণ কিছু সেভ করে দলের লড়াই চালিয়ে দেন। তবে ৬২ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজমের পর পুরো রক্ষণে ছন্দপতন ঘটে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশের রক্ষণের কার্যকরতা কমে যায় এবং তারা আরও তিনটি গোল খায়। গোলগুলো করেন দিলদোরা নোজিমোভা, দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা এবং নিলুফার কুদ্রাতোভা।

মিলি আক্তার টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে মোট ১১টি গোল হজম করলেও তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখে এই আসর ছিল বাংলাদেশের জন্য মূলত অভিজ্ঞতা সংগ্রহের একটি বড় সুযোগ। পার্থের মাঠে হারের বিষাদ থাকলেও, প্রথমবারের মতো এশিয়ার সেরা বারো দলের মধ্যে থাকার গৌরব নিয়ে বাংলাদেশ ফিরছে। সাবিনা ও আফিদাদের মতো তারকারা এই দারুণ অর্জনের সঙ্গে দেশবাসীর আশা, এশিয়ান কাপের এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও প্রতিপত্তিশালী হয়ে আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসবে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল।

পোস্টটি শেয়ার করুন