বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টলিউডে শোকের ছায়া: চিরবিদায় নিলেন বরেণ্য অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী

ওপারে বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের পরিচিত ও সম্মানিত মুখ তমাল রায়চৌধুরী আর নেই। সোমবার ভোররাতে ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে টলিউড ও নাট্যপরিবেশে গভীর শোক নেমে এসেছে। দীর্ঘ Several দশক ধরে মঞ্চ ও পর্দায় পরিশ্রম করে লোকপ্রিয়তা ও সম্মান অর্জন করা এই অভিনেতার চলে যাওয়াকে সহকর্মী ও ভক্তরা বাংলার চলচ্চিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন।

পুনর্বিবেচনায় দেখা যায়, পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে—তামালর প্রতিদিন ভোরে ওঠার অভ্যাস ছিল। সকালে তিনি দেরিতে সাড়া দেবার কারণে পরিচারিকা তাঁকে ডেকে দেখে সন্দেহ হলে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চিকিৎসককে খবর দেন। চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জনপ্রিয় অভিনেতা দেবদূত ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম শোকবার্তাটি জানান; সেখানে তিনি লিখেছেন যে তমাল রায়চৌধুরী ঘুমেই শান্তিপূর্ণভাবে চলে গেছেন।

চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তমাল রায়চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তাঁর হার্টে পেসমেকারও বসানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অসুস্থতার কারণে তিনি বেশ কিছু দিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। চিকিৎসকরা বলছেন, তার আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া বা হার্টফেইলর হতে পারে।

অভিনয় জীবনে তমাল রায়চৌধুরীর অবদান বহুমুখী। রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে শুরু করে ‘চ্যালেঞ্জ’, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘জাতিস্মর’, নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রামধনু’—এই সব ছবিতে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকের মনে বিশেষ ছাপ রেখেছে। ‘চাঁদের পাহাড়’ ও ‘অ্যামাজন অভিযান’ ধরনের বড় পর্দার ছবিতেও তিনি সফলভাবে নিজস্ব ছাপ রেখে গেছেন। বড় পর্দায় তাঁকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল তথাগত মুখোপাধ্যায়ের ফ্যান্টাসি ছবী ‘ভটভটি’-তে। বিনয়ী স্বভাব ও পেশাদারিত্বকে হাতিয়ার করে তিনি বহু চরিত্রে জীবনবোধ এনে দিয়েছেন।

পরিবার ও চলচ্চিত্র মহল অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টায় তাঁর মরদেহ কলকাতার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে শেষ শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে। সেখানে চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের সহকর্মী, বন্ধু ও ভক্তরা তাঁকে শেষ বিদায় জানাবেন। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

তামাল রায়চৌধুরীর রেখে যাওয়া কাজ, স্মৃতি ও অভিনয়ের গভীর ছাপ বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন স্মরণীয় থেকে যাবে। শিল্পী পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

পোস্টটি শেয়ার করুন