বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ করিডর হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা এই করিডরকে ঝুঁকির মুখে ফেলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের উপর শংকাও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিশ্চিত রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার অনুরোধে ইরান আশ্বাস দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশের তেল এবং এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলোর পথে কোনো বাধা আনা হবে না।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা ও সংঘর্ষ এড়াতে ইরান চেয়েছে যে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো হরমুজে প্রবেশের আগেই তা সম্পর্কে জানানো হবে। কারণ ওই অঞ্চল নিয়ে চলমান উত্তেজনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের মতো শক্তির সাথে সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে। এই সমন্বয় এবং ইরানের আশ্বাস পাওয়ার ফলে দেশের তাত্ক্ষণিক জ্বালানি সরবরাহকে নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদীর মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। জ্বালানি বিভাগের কয়েকটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে চীন ও ভারতের কাছ থেকেও সহায়তার আগ্রহ দেখানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রয়োজন পড়লে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা নেয়ার জন্য সরকার যোগাযোগ রাখছে।
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে চীন সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
সরকার কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় থেকে নিশ্চিত করতে চাচ্ছে যাতে দেশের জ্বালানি আমদানি বাধাহীনভাবে অব্যাহত থাকে এবং সাধারণ জনগণের জ্বালানিসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা যায়।





