বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আত্মসমর্পণকারী কিছু চরমপন্থি ফের সক্রিয়

র‍্যাব জানিয়েছে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু চরমপন্থি সংগঠন পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং আত্মসমর্পণ করা অনেক সদস্য আবার অপরাধমূলক কাজে জড়াচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর আদাবর ও সিরাজগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, পাবনা-কুষ্টিয়া অঞ্চলের চরাঞ্চলগুলোতে বালুমহালের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে থাকছে। এসব এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে এবং জব্দ হওয়া অস্ত্রগুলো ওই ধরনের কাজে ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থি সংগঠনে সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জলদস্যু, যারা আগে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল, তাদেরও আবার অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর ধারনা পাওয়া যাচ্ছে—এমনটি নিয়েও র‍্যাব সর্তক। ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের অপরাধপথে প্রত্যাবর্তন সামাজিক-অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে এবং আমাদের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এই ধরনের আশঙ্কা ধরা পড়েছে। র‍্যাবের তৎপরতা আগেও ছিল এবং এখনো আছে; যারা অপরাধে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, র‍্যাব কখনো এককভাবে, আবার কখনো পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালায়।

সংযুক্তভাবে বক্তব্য রাখেন র‍্যাব-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া। তিনি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সর্বহারা ও নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতা রয়েছে। ২০২৩ সালে র‍্যাব-১২ প্রায় ৩১৩ জন চরমপন্থি সদস্যকে আত্মসমর্পণ করিয়েছিল এবং তাদের পুনর্বাসনের কাজ চলমান আছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই কিছু আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের পুনরায় পুরোনো কাজে জড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে; তাই তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলে এসব অভিযানের সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে এবং জব্দকৃত সামগ্রী নিষিদ্ধ গ্রুপের হাতে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে—এরকমই র‍্যাবের ধারণা।

র‍্যাব বলছে, পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং সন্ত্রাস ও চরমপন্থী কার্যকলাপ রোধে প্রয়োজনে আরও যৌথ অভিযান ও কড়াকড়ি চলবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন