শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ চাই না, তবে অধিকার রক্ষায় অনড় থাকবে তেহরান: মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চায় তেহরান, তবু নিজেদের ন্যায্য অধিকার পরিত্যাগ করবে না। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এক লিখিত বার্তায় তিনি এ কথা বলেন—জিনিসটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই বার্তাটি এসেছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধের প্রথম দিনে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে। বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাইনি এবং এখনও চাই না। তবে কোনো অবস্থাতেই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে দাঁড়াব না।” তিনি এ প্রেক্ষাপটে পুরো ‘প্রতিরোধ জোটকে’ একসঙ্গে বিবেচনা করার কথাও বলেছেন। বিশ্লেষকরা ওই মন্তব্যকে লেবানন ও হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে দেখছেন।

একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে ইরান এক দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনা শুরু করার পথ খুলতে পারে—সূত্রের খবর। এর আগেও মার্কিন পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছিল; তখনকার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।

মোজতবা খামেনি তার বার্তায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “জনগণের রাস্তায় নামা এখনও গুরুত্বপূর্ণ; জনসমাবেশে আপনাদের কণ্ঠস্বর আলোচনার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।”

এদিকে কয়েকটি প্রতিবেদনে মনে করা হচ্ছে, তার বাবার ওপর হামলার সময় মোজতবারও আঘাত হয়েছে। নেতৃত্ব গ্রহণের পর এখনো তিনি জনসমক্ষে আসেননি; তার সব বার্তাই লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি চিকিৎসাধীন আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন—কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হলেও সেগুলোর সময়কাল নির্দিষ্ট করা হয়নি। এক পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন মোজতবা খামেনি হয়তো মারা গেছেন, তবে তা নিয়ে সরকারি পক্ষের তথ্য ঘটনাপ্রবাহে ভিন্ন রূপ নিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন