সোমবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃষক কার্ডে সময়োপযোগী নতুন সেবা যোগ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষি একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা এবং ‘কৃষক কার্ড’ সেই মর্যাদা আরও উস্কে তুলবে। তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রচলিত সেবাসমূহের পাশাপাশি সময়োপযোগী নতুন নতুন সেবা যুক্ত করা হবে, যা কৃষকদের দৈনন্দিন কাজকে সহজ এবং লাভজনক করবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কৃষক কার্ড চালুর ফলে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় এসে কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই উদ্যোগ কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক করে তুলবে, কৃষকদের আয় বাড়বে এবং কৃষিতে পেশাগত মর্যাদা ফিরে পাবেন। একই সঙ্গে কৃষিখাতকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে শক্তিশালী করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীদের নেতৃত্বে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে প্রতিটি কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড প্রদানের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার গঠনের পরপরই কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কার্ড বিতরণ শুরু করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা পয়েন্ট-অফ-সেল মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য ও প্রাণী খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়া কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য সুবিধা দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি হলো দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা কৃষকের হাতেই। সরকার কৃষিজমির উর্বরতা ও মাটির গুণগত মান ফিরিয়ে আনতে এবং ফসলের বৈচিত্র্য বাড়াতে কাজ করছে, যেখানে কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রণোদনা ও বিভিন্ন সেবা পাবে এবং তাদের বিক্রয়-লেনদেন, ঋণগ্রহণ ও সরকারি সহায়তা আরও সহজ হবে।

কৃষক কার্ডের প্রধান সুবিধাসমূহ: ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধায় ন্যায্য দাম, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল-ভিত্তিক আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই মোকাবেলার পরামর্শ, কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্য মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ।

মন্ত্রী শেষ করেছেন, ক্রমশ ডিজিটালীকরণের মাধ্যমে কৃষি প্রশাসন এবং সেবাদান আরও দ্রুত, দিননিং ও কৃষক-বান্ধব করা হবে, যাতে প্রতিটি ক্ষুদ্র-মধ্যম চাষিও স্বচ্ছভাবে সেবা এবং সহায়তা পেয়ে তার জীবনমান উন্নত করতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন