বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের দাবি: দুই দিনের মধ্যে ইরান যুদ্ধ শেষের মুখে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী ইরান-মুখী সংঘাত এখন সমাপ্তির দিকেই এগোচ্ছে। ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া বার্তিওরমোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, এই সংঘাত শেষের পথে আছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে যেকোনো বড় পরিবর্তন ঘটার শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান আবার আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফক্স বিজনেস ও নিউ ইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই যুদ্ধের ভবিষ্য্য নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইসলামাবাদে আলোচনায় ফিরে যাওয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীর আগ্রহ রাখছে। এর আগে পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি জে.ডি. ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের মধ্যে দীর্ঘ সময়ব্যাপী আলোচনা হয়েছিল; তাতে কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি, তবু আন্তর্জাতিক মহল আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও প্রকাশ্যে বলেছেন যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিদল চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ পাকিস্তানে ফেরার কথা ভাবছে।

কূটনৈতিক প্রয়াসের সঙ্গে সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্যে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে কয়েকদিন ধরে নৌ-অবরোধ থাকায় ইরানের সামুদ্রিক আমদানি-রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কোনো বন্দর বা উপকূলীয় এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজের সরবরাহ কার্যক্রম চালু থাকতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে এই ধরনের চাপই তেহরানকে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ধাবে।

তবে শান্তি আলোচনার আশার মাঝেও জটিলতা কমেনি। বর্তমানে আরোপিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। তার আগেই ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে যেভাবে হামলা চালিয়েছে তাকে অনেকেই যুদ্ধবিরতির শর্তের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতিমধ্যে চার হাজার কোটি (চার দশকের চেয়ে আলাদা না) নয়—কথাটি নিশ্চিত নয়— বরং চলমান দিনগুলোতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে।

তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় ফিরবে কিনা সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবু ট্রাম্পের জোরালো পূর্বাভাস থেকে মনে হচ্ছে পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমঝোতার রূপরেখা গড়ে উঠছে। এখন বিশ্বের নজর পাকিস্তানের দিকে, যেখানে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্য্য নির্ধারিত হতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন