রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেজবাবা সুমন এবার চিত্রনাট্যেও, রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’-এ বড় চমক

বাংলাদেশের রক সংগীতের বরেণ্য কণ্ঠস্বর ও অর্থহীন ব্যান্ডের প্রাণভোমরা সাইদুস সালেহীন সুমন—ভক্তদের কাছে আলোচিত ‘বেজবাবা সুমন’—ফিরে আসছেন বড় পর্দায় এক নতুন পরিচয় নিয়ে। দীর্ঘদিন নিজের গান সিনেমায় ব্যবহার করার বিষয়ে রক্ষণশীল থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি তাঁর সৃজনশীলতা চলচ্চিত্রে আরও গভীরভাবে যুক্ত হচ্ছে।

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ সুমনের গাওয়া ‘চাইতেই পারো তুমি’ গানটি যে সাড়া ফেলেছে, তার জের কাটতে না-cutতেই আরও বড় খবর শুনতে মিলেছে। জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফীর আসন্ন চলচ্চিত্র ‘আন্ধার’-এ সুমন কেবল গায়ক বা সংগীতসংগঠক হিসেবে নয়, গল্প রচনাতেও দায়িত্ব নিয়ে আছেন।

এক সাক্ষাৎকারে সুমন জানিয়েছেন, ‘আন্ধার’-এ দর্শকরা তাঁর পুরোনো পরিচিত সংখ্যা ছাড়াও নতুন গান শুনবেন। নতুন গান নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে প্রযোজনা সংস্থা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই এখনই সবকিছু বলা সম্ভব নয়—তবে তাঁর এই অংশগ্রহণ দর্শকদের জন্য বিশেষ কিছু হয়ে উঠবে বলেই ধারণা দিয়েছেন সুমন।

‘আন্ধার’-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে এর গল্প। সুমন নিজেই সিনেমাটির অন্যতম গল্পকার; সঙ্গে রয়েছেন ক্রিপটিক ফেইট ব্যান্ডের শাকিব চৌধুরী এবং আদনান আদিব খান। সুমন ও শাকিব ব্যক্তিগত জীবনে ভৌতিক ও রহস্যময় কিছু অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহী—এই বাস্তব ঘটনার বিচিত্র স্মৃতি আর কল্পনার মিশ্রণে গড়ে উঠেছে ‘আন্ধার’-এর চিত্রনাট্য।

সুমনের দাবি, এটি শুধুই প্রচলিত ভৌতিক সিনেমা নয়। গল্পে থাকবে অ্যাকশন, থ্রিলার, কমিক রিলিফ ও গোয়েন্দা উপাদানের সমন্বয়—এক ধরনের বহুমুখী ঘরানার প্রয়াস, যা বাংলাদেশে এমনভাবে আগে দেখা যায়নি। সৃজনশীল দায়বদ্ধতাই এই কাজকে এগিয়ে নিয়েছে, বললেন তিনি।

সিনেমাটির কাস্টিংও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ: প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ ও নাজিফা তুষি। এছাড়া দর্শকরা দেখতে পাবেন চঞ্চল চৌধুরী, আফসানা মিমি, গাজী রাকায়েত ও মোস্তফা মনওয়ারের মতো শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের। গত বছরই দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে এবং এখন চলমান রয়েছে মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী, এ বছরের মধ্যেই সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে।

সুমন বলছেন, ভালো গল্প-দক্ষ নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করা তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। সিনেমার সঙ্গীত ও গল্প—দুটোতেই অংশ নিয়ে বাংলা সিনেমার এই সোনালি পরিবর্তনে নিজেকে অংশীদার মনে করছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, ‘আন্ধার’-এর রহস্য আর সুমনের নতুন সুর দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন