যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন—কারণ, সাম্প্রতিক এক নিয়োগে নিরাপত্তা যাচাইয়ে (সিকিউরিটি ভেটিং) ব্যর্থতার তথ্য বদলে তাকে তৎক্ষণাৎ জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে এবং স্টারমারের বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার মূল নায়ক লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা পিটার ম্যান্ডেলসন, যাকে আগে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ম্যান্ডেলসনকে নিযুক্তির আগে নিরাপত্তা যাচাইয়ের তালিকায় বাদ পড়ার তথ্য পরে প্রকাশ পায়; এর আগেই তিনি জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
স্টারমারের কার্যালয় বলেছে, প্রধানমন্ত্রী এই নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থতার বিষয়ে জানতেন না। বিষয়টি সামনে আসার পর বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন—এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রধানমন্ত্রী কীভাবে অনবহিত ছিলেন? ফলে তারা স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
ইরান সংকট নিয়ে ফ্রান্সে অবস্থানকালে স্টারমার সাংবাদিকদের জানান যে, তিনি পার্লামেন্টে জানিয়েছিলেন নিয়োগে যথাযথ নিয়ম মেনে নেওয়া হয়েছে; কিন্তু ম্যান্ডেলসন যে নিরাপত্তা যাচাইয়ে বাদ পড়েছিলেন, সেটা তাঁকে জানানো হয়নি এবং এটা ক্ষমার অযোগ্য বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন, সোমবার পার্লামেন্টে ‘‘প্রাসঙ্গিক সব তথ্য’’ উপস্থাপন করবেন। একই সঙ্গে একটি মুখপাত্র বলেছেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।
সরকারি প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বৃহস্পতিবার রাতেই পররাষ্ট্র দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে—চেষ্টা করা হচ্ছে কেলেঙ্কারিটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার।
তবে विवाद ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ক্ষতি তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির ঐতিহাসিক জয়ের পরও স্টারমারের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিশেষত আগামী মাসে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনের আগে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে এই বিতর্ক লেবারকে ওই নির্বাচনে বড় মূল্য দিতে বাধ্য করতে পারে।
অন্তরঙ্গ প্রতিক্রিয়া রয়েছে—নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লেবার এমপি বলছেন, তারা এখনই স্টারমারের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেবে না, তবে ম্যান্ডেলসন-কাণ্ড বিরোধীদের জন্য ‘‘অফুরন্ত উপহার’’ হিসেবে কাজ করছে এবং আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দলের জন্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। অন্য এক এমপি দাবি করেছেন যে, 당시 পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকা উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিরও পদত্যাগ করা উচিত, কারণ নিরাপত্তা যাচাইয়ের এই ব্যর্থতা তার সময়ে ঘটেছে।
অন্যদিকে হাউস অব লর্ডসের লেবার সদস্য জর্জ ফুকস রয়টার্সকে বলেছেন, স্টারমার অনেকগুলো বিষয়ে ভালোভাবে কাজ করছেন, তাই এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া অতিরিক্ত তাড়া হবে।
সংক্ষেপে, ম্যান্ডেলসন নিয়োগের সময় হওয়া নিরাপত্তা যাচাইয়ের ব্যর্থতা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে স্টারমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে—প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি বিষয়টি পার্লামেন্টে ব্যাখ্যা করবেন; ততদিনে সরকার ও লেবার পার্টির অভ্যন্তরে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা চালু থাকবে।