সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্দিষ্ট ‘লাল রেখা’ মেনে চলার শর্তে আলোচনায় বসতে রাজি তেহরান

মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ হতে চলার ঠিক আগে আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই শত্রু দেশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

তবে তেহরান এই বৈঠকে নীতিগতভাবে সম্মত হওয়ার বিনিময়ে কিছু ‘লাল রেখা’ বা স্পষ্ট শর্ত বসিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি আল জাজিরার রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ইরান আলোচনায় বিশ্বাস রাখলেও তারা শর্তহীনভাবে কোনো দাবী মেনে নেবে না।

আজিজি স্পষ্ট করে বলেছেন যে তেহরানের অংশগ্রহণ মানে আত্মসমর্পণ নয়—তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছে এবং এগুলোকে মার্কিন পক্ষকে সম্মান করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে এসব শর্ত না মানলে আলোচনাকে ফলপ্রসূ করা কঠিন হবে।

ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদল পাঠানো এখনও চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত না; আজিজি জানান সবকিছু নির্ভর করছে ওয়াশিংটন থেকে আসা গঠনমূলক ও ইতিবাচক সংকেতের ওপর। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন পক্ষ যদি গ্রহণযোগ্য বার্তা দেয় তাহলে আজ বা আগামীকালের মধ্যে প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তেহরান সরকার পরিস্থিতির গভীরভাবে মূল্যায়ন করে একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের আগমনকে ঘিরে পাকিস্তানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানান, প্রথম দফা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হোটেলটি ও আশপাশের সড়ক কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় কঠোর কন্ট্রোল চলেছে। এই কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা ও মার্কিন প্রতিনিধিদের আগমনের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। সেই ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে এবার দ্বিতীয় দফার বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ব সম্প্রদায় কড়া নজর রাখছে যে, জে ডি ভ্যান্সের সফর ও তেহরানের ঘোষিত ‘লাল রেখা’র মধ্যে ভারসাম্য রেখে কি একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব হবে কি না। এই সংলাপের সফলতা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসান ঘটাবে না কি নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত করবে—সবকিছুই এখন আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন