শনিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে উদ্যোগ নিন: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতের অপ্রচারিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো দেশের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা আবার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, ‘জামায়াত এখন দেশকে আবার ভিন্নভাবে স্বৈরাচারের ছক আঁচ করতে চাইছে, এ নিয়ে আমাদের গভীর ভাবনা ও দায়িত্ব রয়েছে। তাদের অতীত ইতিহাস জানে সবাই। জনগন সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়, সেজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’ শনিবার (২৫ এপ্রিল) নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মলে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল জামায়াতের আমিরের বক্তব্যকে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াটেপনা তৈরি করার চেষ্টাও হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আনুমানিক দেড় দশক ধরে দেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল ও বিশ্ববাসীর স্বাক্ষরিত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। জনমতের প্রতিফলন এই নির্বাচন—এটাই দেশের গণতন্ত্রের প্রতিফল। দীর্ঘ ১৮ বছর একনায়কশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফলস্বরূপ কেবল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই নয়, একটি প্রকৃত নিরপেক্ষ নির্বাচনও আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্ব নেতাদের প্রশংসা অর্জন করেছে। এই স্বচ্ছ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াতের নেতার অপ্রচারিত বক্তব্য অত্যন্ত প্রত্যাশার বাইরে এবং অপ্রাসঙ্গিক।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা একথা স্পষ্টঠভাবে ঘোষণা করি যে, জামায়াতের এই বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। ৫ আগস্টের পরের গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেয়া আমাদের উপায়গুলোকে যারা নানা কৌশলে ব্যর্থ করতে চায়, তারা আবারও দেশকে স্বৈরাচারের পথে ঠেলে দিতে চাইছে কি না, তা সম্পূর্ণ দেশবাসীর বিবেকের উপর আস্থা রেখে ভাবা উচিত। এই অবস্থায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে যাতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকে।’

পোস্টটি শেয়ার করুন