শনিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে, সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা এসেও বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। সরবরাহে কোনো দ্রুত শিথিলতা দেখা যাচ্ছে না, ফলে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বেড়েই চলছে। প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী বরাবর চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নকে তুলে ধরছেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এশীয় বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেল প্রতি ১০৫.৮০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময় মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম করায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ উঠে ব্যারেল প্রতি ৯৬.৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতক অস্থিরতা ও কৌশলগত এই জলপথে জাহাজ চলাচলের ব্যাহত হওয়ার কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক‑পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে আংশিকভাবে বন্ধের আশেপাশে রয়েছে।

ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে না নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি একটি সমন্বিত ও কার্যকর শান্তি প্রস্তাব না করে তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে। এই রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিক্রিয়া হাইপার সক্রিয়তা বজায় রাখায় বাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ছায়াযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলো জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে চাপ অনুভব করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব মজুদ ও উৎপাদন থেকে রপ্তানি বাড়িয়ে কিছুটা শূন্যস্থান পূরণ করেছে এবং রেকর্ড স্তরে সরবরাহ বাড়িয়েছে, তথাপি বৈশ্বিক চাহিদার সামনাসামনি তা পর্যাপ্ত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ শৃঙ্খল পূরণে ব্যাঘাত থাকলে অচিরেই তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

এনিয়ে অর্থনীতি ও শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পেট্রোলিয়াম পণ্যভিত্তিক পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত ভোক্ত্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়বে। অনিশ্চয়তার এই সরবতা কেবল তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ববাজারে সরবরাহশৃঙ্খলের বিস্তৃত খরচের ওপর চাপ তৈরি করবে—বিশেষ করে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি কূটনৈতিক ও নৌনিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত শিথিল না হয় এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক না হয়, তবে ভবিষ্যতে জ্বালানি মূল্য উল্লম্ফন এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকট আরও গভীর হওয়া প্রায় অনিবার্য। তাই রাজনৈতিক লডাউট ও কৌশলগত কোন সমাধান না চাইলে ভোক্তা ও ব্যবসা উভয়ের জন্য কষ্টকর পরিণতি অপেক্ষা করছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন