তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন ঢেউ—অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের কেন্দ্রীয় নতুন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে পারফরম্যান্স নিয়ে বুথফেরত জরিপগুলো রঙিন পূর্বাভাস দিচ্ছে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সার্ভে অনুযায়ী, টিভিকে তাদের প্রথম লড়াইয়ে ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে। যদি এমন ফল আসে, তাহলে টিভিকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীন ডিএমকে ও তাদের জোটকে বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হবে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ছবি দেখাচ্ছে। পিপলস পালসের জরিপ বলছে ডিএমকে ও তাদের মিত্ররা ১২৫–১৪৫টি আসন পেতে পারে, আর এআইএডিএমকে ও তাদের জোট ৬৫–৮০টি আসনের মধ্যে থাকতে পারে। পিপলস ইনসাইটের পূর্বাভাসে ডিএমকে জোট ১২০–১৪০টি এবং এআইএডিএমকে জোট ৬০–৭০টি আসন পেতে পারে।
কিছু জরিপে ডিএমকেকে এগিয়ে দেখা গেছে; প্রজা পোল বলছে ডিএমকে ও তাদের জোট ১৪৮–১৬৮টি আসন পেতে পারে, এআইএডিএমকে ও তাদের মিত্ররা ৬১–৮১টি এবং টিভিকে মাত্র ১–৯টি আসন পেতে পারে। পি-মার্কের হিসাবেও ডিএমকে জোট ১২৫–১৪৫, এআইএডিএমকে জোট ৬৫–৮৫ এবং টিভিকে ১৬–২৬টি আসন পেতে পারে।
ম্যাট্রাইজের পূর্বাভাসে ডিএমকে জোট ১২২–১৩২ এবং এআইএডিএমকে ৮৭–১০০; টিভিকে ১০–১২টি আসন পেতে পারে বলে দেখা গেছে। অন্যদিকে কামাখ্যা অ্যানালিটিকসের জরিপে ডিএমকে জোট ৭৮–৯৫, এআইএডিএমকে ৬৮–৮৪ এবং টিভিকে ৬৭–৮১টি আসন পেতে পারে—এটি টিভিকेকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে এমনই ইঙ্গিত দেয়। জেভিসি তাদের পূর্বাভাসে ডিএমকে জোট ৭৫–৯৫, এআইএডিএমকে জোট ১২৮–১৪৭ এবং টিভিকে ৮–১৫টি আসন পেতে পারে বলেছে।
এই সব ফলাফল থেকে একটাই স্পষ্ট বিষয়—জরিপগুলোতে বিরাট বৈচিত্র্য আছে। কিছু জরিপে টিভিকে বড় সাফল্য পেতে পারে, অন্যদের মতে তা কিছুই নয়। বাস্তব ফলাফল কেমন হবে তা ভোটগণনায় স্পষ্ট হবে।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: এই বার প্রধান লড়াই হয়েছে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (এসপিএ) এবং এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)–এর মধ্যে; এসপিএ জোটে কংগ্রেস, ভিসিকে ও অন্যান্য দল রয়েছে, এনডিএ জোটে বিজেপি ও পিএমকে আছে।
ভোটগ্রহণও ছিল উৎসাহজনক—বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২৩ এপ্রিল বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮২.২৪ শতাংশ। বিধানসভার ২৩৪টি আসনে ভোট গ্রহণ সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়। ভোটের ফল গণনা হবে সোমবার।
সংক্ষেপে: জরিপগুলো টিভিকেকে কেন্দ্রভিত্তিক একটি বদল দেখাচ্ছে—কতটা বাস্তবে বদল আসবে সেটাই আসল প্রশ্ন। যদি টিভিকে উল্লেখযোগ্য আসন পায়, তাহলে তামিলনাড়ুর রাজনীতি নতুন মাপকাঠিতে পৌঁছাতে পারে; নতুবা প্রচলিত দুই জোটের লড়াই প্রধান থাকবে।