শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমজীবী মানুষের সংগীত, স্লোগান ও মিছিলে পালিত হলো মে দিবস

মহান মে দিবসের উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার রাজপথ শ্রমজীবী মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠন জড়ো হয়ে একাধিক দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ, সভা ও র‍্যালি বের করে। শ্রমজীবীরা গানের তালে, স্লোগানের ধ্বনি ও মিছিলের মাধ্যমে তাঁদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রবল দাবি তুলে ধরেন।

শ্রমজীবী মানুষদের পক্ষ থেকে নানা গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়, যেমন—বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির দাবি, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কমানো, মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিতকরণ, ও কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ। পাশাপাশি, রানা প্লাজা ও তাজরিন ট্র্যাজেডির মতো দুর্ঘটনার বিচার, নিয়োগপত্র প্রদান, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিগুলোও জোরেশোরে উঠে আসে।

বেসরকারি দলের নেতাকর্মীরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ রেখে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের দাবি নিয়ে বারবার রাস্তায় নামতে না হয়। সরকার যেন শ্রমিকের ন্যায্য দাবি পূরণ করে এবং শ্রমিকদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন তৈরি করে। কারণ, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ছাড়া শ্রমিকদের মুক্তি সম্ভব নয়।’

শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর নেতারা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির উপর জোর দিয়ে বলেন, ‘শ্রমিকদের কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। না হলে আমাদের দাস প্রথা সমাজ থেকে চলে যাবে। আমরা মনে করি, শ্রমিকের জীবনমান উন্নত করতে প্রথমে শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে এবং শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করে তার যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।’

শ্রমিকদের ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টাকে অস্বস্তিকর মন্তব্য করে বক্তারা মালিক পক্ষের দালাল তৈরির প্রবণতার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানান। বলেন, ‘‘শ্রমিকরা যেন একসঙ্গে থাকতে না পারে, এজন্য মালিকপক্ষ দালাল তৈরি করে শ্রমিকদের বিভক্ত করে রাখে। এই বিভক্তি বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে, নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’’

বিশেষ করে বিড়ি শ্রমিকরা आगामी বাজেটে শুল্ক বৃদ্ধির বিরোধিতা করে শুল্ক না বাড়ানোর ও রেশন সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, ট্যাক্সি ও অটোরিকশা চালক ইউনিয়ন দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে নূন্যতম ৩৫ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ) দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি বাতিলের, নিষিদ্ধ অস্ত্র ও সামরিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দাবিও জানানো হয়।

এছাড়া, এই মহান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন সংগঠন, যেমন—কর্মজীবী নারী, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টসহ আরও অসংখ্য শ্রমিক সমর্থক সংগঠন, যারা একত্রিত হয়ে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল থাকবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন