শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইভিএম কারচুপি অভিযোগে ও পাল্টা কটাক্ষে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

আগামী ৪ মে ভোটগণনার মুখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সরগরমি তীব্র রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতভোর কলকাতার ভবানীপুরে ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজেস্ব উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অতিশয় উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুল সংলগ্ন স্থানে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ালে সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, তিনি ইভিএমে কারচুপির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাকে বাধা দিয়েছিল। পরবর্তীতে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে তিনি স্ট্রং রুমে প্রবেশ করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন—ভোট লুটের চেষ্টা হলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

মমতার অবস্থানের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের কাছে ধর্নায় বসেন। দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে যে, নির্বাচনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে সীল করা ব্যালট বাক্স ভাঙার চেষ্টা চলছিল এবং বিজেপি কর্মীরা এতে জড়িত। তৃণমূল এই ঘটানাকে ‘সংবিধান ও গণতন্ত্র হত্যার চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়ে রাজ্যের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার জবাবদিহি দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য—আগেই ভোটারদের ভয়ভীতি ও অর্থের প্রভাব প্রয়োগে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন বিজেপি সরাসরি ইভিএম কারচুপি করে গড়খানায় লাঞ্ছনা করার চেষ্টা করছে।

পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকে ‘বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন যে, ভবানীপুরসহ রাজ্যের ভোটগ্রহণে কোনও প্রকার অন্যায় সুবিধা যাতে না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি দাবি করেছে যে, পরাজয় আশঙ্কার কারণে তৃণমূল ইভিএম ও নির্বাচন কমিশনের ওপর দায় চাপিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

এই পাল্টা-প্রতিপাল্টি অভিযোগের মধ্যে ভোটগণনার আগ মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত টানটান ও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। দুই শিবিরই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, ফলে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনগণের উদ্বেগও বাড়ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন