জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানার লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামগুলো এখন ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এ বিষয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে নতুন তথ্য নিশ্চিত করেছে। র্যাবের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানার লুটের অংশ, যদিও বর্তমানে কোন থানার সেটি নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি সংস্থাটি।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর ডেমরা এলাকার মেণ্ডিপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অভিযান চালিয়ে দুজন পলাতক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলো চক্রের মূল হাতি মো. আলামিন, ওরফে মোটা আলামিন, এবং অপরজন হলো তার সহযোগী মো. রায়হান।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, এসব অভিযানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, ভুয়া নম্বরপ্লেট, র্যাবের জ্যাকেট, হাতকড়া, ওয়াকিটকি, স্টিকারসহ আরও অনেক সরঞ্জাম। এই হাতকড়াগুলো রুটির মতো গত ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানার লুটের অংশ বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
চৌধুরী বলছেন, এই চক্রটি পুলিশের পোশাক পরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি চালিয়ে আসছে। তারা বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীরা থেকে টাকা, মূল্যবান সামগ্রী লুট করত। কখনও কখনও র্যাব বা পুলিশের জঙ্গী পরিচয়ে, আবার কখনও যৌথ বাহিনী বলে পরিচয় দিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটাতো।
আলামিন এর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্রের মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জে স্বর্ণব্যবসায়ীদের কাছ থেকে র্যাবের পরিচয়ে ৭১ লাখ টাকা লুটের মামলায়ও তিনি জড়িত। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ঢাকার খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল সদর ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মোট ৮টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয় গ্রেপ্তার রায়হান পেশায় চালক হলেও ডাকাত দলের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। র্যাবের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সে ডাকাতির জন্য যানবাহন সরবরাহ, রুট নির্ধারণ ও পালানোর পরিকল্পনায় অংশ নেয়। এরপর বহু এলাকায় র্যাবের অভিযানের সময় এই সদস্যরা অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে উঠে এসেছে।