ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, পেন্টাগনের প্রকাশ করা খরচের দিকটি সত্যি নয় ও তা গোপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরাগচি এই দাবি এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘‘জুয়া’’ আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিতে ফেলেছে — যা সরকারি হিসেবে প্রকাশিত অঙ্কের প্রায় চার গুণ। তিনি বলেন, পেন্টাগন মিথ্যা বলছে এবং নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
এর আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, এই সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন পেন্টাগনের এসব তথ্য ত্রুটিপূর্ণ বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং সেখানে বলা হয়েছিল, বাস্তবে ব্যয়টি ৪০-৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যেই থাকতে পারে।
আরাগচি আরও দাবি করেন যে পরোক্ষ খরচ অনেক বেশি এবং এই সংকটের ফলে প্রতিটি মার্কিন পরিবারের জন্য মাসিক অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দেওয়া মানেই আমেরিকার ক্ষতি।
সংঘাতে জনহানি সম্পর্কেও ইরানের বিভিন্ন সরকারি সূত্র কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে। ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘর্ষে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হয়েছেন এবং ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
একই সময় তেহরান তার কূটনৈতিক উদ্যোগ তীব্র করেছে। আরাগচি আঞ্চলিক ছয়টি দেশের — তুরস্ক, মিসর, কাতার, সৌদি আরব, ইরাক এবং আজারবাইজান — পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করানোর লক্ষ্যে তেহরানের অবস্থান ও কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।
কূটনীতিক এক সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। আরাগচির এই অভিমত ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তেহরান তার অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছে।