শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুতোষ গোয়ারিকরের পরিচালনায় লালা অমরনাথের বায়োপিকে আমির খান

বছর দুয়েক আগে মুক্তি পাওয়া ‘লগন’-এর অসামান্য সাফল্যের প্রায় দুই যুগ পর আবারও একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন অভিনেতা আমির খান ও পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর। ব্রিটিশ বিরুদ্ধ ক্রিকেট লড়াইকে কেন্দ্র করে যে ছবিটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তার স্মৃতি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে আজও তাজা। এবার এই শক্তিশালী জুটি আবারও ক্রিকেটকেন্দ্রিক এক বাস্তব জীবনের কাহিনি নিয়ে পর্দায় ফিরছেন।

তাদের নতুন প্রকল্পটি ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার লালা অমরনাথের জীবনীভিত্তিক ছবি হবে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য মূলত ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভারত-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে—দেশভাগের পরের সেই সময়কার প্রতিকূলতার মাঝেই দুই দেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও তার নেপথ্যের গল্প এখানে উঠে আসবে। খেলাধূলা কীভাবে বন্ধুত্ব, রাজনীতি ও দেশের ভাবনাকে ছুঁয়েছে—সেই সংবেদনশীলতা আলোর মতো ফুটিয়ে তোলা হবে।

এই ছবিতে লালা অমরনাথের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় অভিনয় করবেন আমির খান। ‘লগন’-এ আমিরকে গ্রামের একজন অপেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে দেখা গিয়েছিল; এবার তাকে দেখতে পাবেন জাতীয় দলের একজন পেশাদার ক্রিকেটারের চরিত্রে—এটাই ভক্তদের কৌতূহলের এক বড় কারণ। সিনেমায় লালার জীবনযাত্রা, নেতৃত্ব ও ক্রিকেটকর্মীর সংগ্রাম—সবকিছুই বাস্তবে এসে ঠেকবে পর্দায়।

চিত্রনাট্য লিখেছেন পীযূষ গুপ্ত ও নীরজ সিং, আর এতে বিশেষ কনসাল্ট্যান্ট হিসেবে অবদান রাখছেন পরিচালক রাজকুমার হিরানি। প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আমির খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রজেক্টে সম্মতি দিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শুটিং শুরু হতে পারে।

সিনেমাটি প্রযোজনা করছে ফারহান আখতার ও রিতেশ সিধওয়ানির এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট—এটি আমির খানের এক্সেল-এর সঙ্গে তৃতীয় বড় প্রকল্প, পূর্বে তারা কাজ করেছেন ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ও ‘তালাশ’-এ। আশুতোষের সূক্ষ্ম নির্দেশনা এবং আমিরের নিবিড় অভিনয় মিলিয়ে এই বায়োপিকটি বছরের অন্যতম আলোচিত প্রজেক্ট হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

খেলাধুলা, ইতিহাস ও মানুষ—এই তিন উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি এই বায়োপিক কেবল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নয়, সাধারণ দর্শকের কাছেও শক্ত আবেগ ও মন ছুঁয়ে দেওয়ার মোক্ষম সম্ভাবনা রাখে।

পোস্টটি শেয়ার করুন