মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এটিএম বুথে নগদ টাকার ভয়ংকর সংকট

পবিত্র ঈদুল আজহার সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানের এটিএম বুথগুলোতে নগদ টাকার ভয়ানক সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ছুটির সময়ের জন্য নিরবচ্ছিন্ন অনলাইন ও বুথ সেবা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত শনিবার থেকে অনেক গ্রাহক ব্যাংকের এটিএম বুথে গিয়ে টাকা না পেয়ে ফিরে আসছেন, বিশেষ করে ঈদের খরচ ও পশুর হাটে লেনদেনের প্রয়োজনীয়তার কারণে নগদের চাহিদা তুঙ্গে থাকায় এই পরিস্থিতি আরও সমস্যাজনক হয়ে উঠছে। পক্ষাঘাতপ্রাপ্ত গ্রাহকদের অভিযোগ, বেশ কিছু ব্যাংক তাদের অ্যাটিএমের মাধ্যমে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন বন্ধ বা সীমিত করে দিয়েছে। মূলত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সৃষ্ট ঋণ ও জালিয়াতির কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলো এখন ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারছে না, যার ফলে গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশী বিপদে পড়েছেন। নিজস্ব বুথগুলো অকেজো থাকায় তারা অন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হলেও আন্তঃব্যাংক সেবা সীমিত থাকায় টাকা তুলতে পারছেন না। ব্যাংকের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, ঈদের সময় হাতে থাকতেই ছাপানো টাকার চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়, কিন্তু অনেক ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে তারা সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব এটিএম বুথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বচ্ছন্দে নগদ টাকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, তবুও অনেক ব্যাংকের বুথে টাকা না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কেন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং সেবা নিশ্চিতের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঈদের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ২১টি পশুর হাট ও বিভাগীয় শহরগুলোর প্রধান হাট সংলগ্ন ব্যাংক শাখাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা রাখা হয়েছে। এসব শাখা সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগদ লেনদেনের সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়া, তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও ভাতার জন্য সংশ্লিষ্ট শিল্প এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো মঙ্গলবার রাত ১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে পশুর হাটে নগদ টাকার সংকট কিছুটা লাঘব হবে। সাধারণত ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর থেকে গ্রামে চলে যায়, যার কারণে উপজেলা পর্যায়ের বুথগুলোতে টাকার চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে যায়। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে বুথের সংখ্যার অভাব ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রান্তিক পর্যায়কাররা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারণের আলোচনায় থাকলেও, ঈদের মতো বড় উৎসবে ক্যাশ সংকটের সমস্যা প্রতি বছরই চিহ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন