রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ হাজারের বেশি হাজি হজ শেষে দেশে ফিরলেন

পবিত্র হজ সম্পন্ন করে বাংলাদেশের হাজিরা দেশের উদ্দেশ্যে ফিরতে শুরু করেছেন। আজ ৩০ মে মধ্যরাত ৩টার মধ্যে মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি সুরক্ষিতভাবে দেশে পৌঁছেছেন। ধর্মমন্ত্রী কাদের নির্দেশে এই তথ্য নিশ্চিত করে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও আইটি হেল্প ডেস্কের সর্বশেষ বুলেটিন। এ বছর হজে অংশ নেওয়া হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন ইতিমধ্যে স্বদেশে ফিরে আসেন।

ফিরতি পরিকল্পনায় তিনটি বিমান সংস্থা সরাসরি হাজিদের নিয়ে আসায় এ বিষয়টি আরও সহজলভ্য হয়। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তিনটি ফ্লাইটে ১ হাজার ১৮৪ জন এবং সৌদি এয়ারলাইন্স চারটি ফ্লাইটে ১ হাজার ৬৯১ জন হাজি বহন করে। অন্যদিকে, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স আটটি ফ্লাইটে দেশের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩০০ হাজিকে ফিরিয়ে আনে। এই ফিরতি ফ্লাইটের কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে, দেশে ফেরার খুশির সাথে কিছু দুঃখের খবরও এসেছে। সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজি মারা গেছেন, যার মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৭ জন মক্কায় এবং ১০ জন মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এছাড়া, অসুস্থ হয়ে পড়া ১৭৬ জন হাজি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ২৬ জন হজযাত্রী বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিফরত প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক দল, চিকিৎসক এবং আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা। সভায় হাজিদের আবাসন, চিকিৎসা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, এ বছর বাংলাদেশের হজ কোটা ছিল ৭৮,৫০০ জন। হজের ফ্লাইট সার্ভিস ১৮ এপ্রিল শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়। এক মাসের এই সময়ের মধ্যে দায়িত্বশীলভাবে হাজিদের নিয়ে কার্যক্রম চালানো হয়। উভয়পক্ষের সমন্বয় ও সহযোগিতায় হাজিদের ফেরার প্রক্রিয়া সহজ ও নির্বিঘ্ন হয় তা নিশ্চিত করতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি ও সহায়তা কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন