নওগাঁ পৌর এলাকায় জমি কম দামে হাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে ‘পিপলস সিটি’ নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নওগাঁ শহরের একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে পিপলস সিটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে কয়েকজন ভুক্তভোগী তারা অভিমত প্রকাশ করেন। সভায় প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ২২ জন ওয়ারিশের পক্ষে দেওয়ান মিজানুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান জানান, ১৯৭৩ সালে তাদের দাদা রিয়াজ উদ্দিন ফজলুর রহমান দেওয়ানের কাছ থেকে নওগাঁ পৌরসভার কোমাইগাড়ী মৌজায় আর এস ১৫৮ খতিয়ানে ৪৫৪ দাগে ৮২ শতক জমি কিনেছিলেন। মৃত্কালে দাদা ওই সম্পত্তি কোনোভাবে হস্তান্তর বা বিক্রি করেননি। পৈত্রিক সূত্রে ২২ জন ওয়ারিশ বর্তমানে সেই জমির বৈধ মালিক এবং চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সকল আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাদের নামে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। তারা নিয়মিত খাজনা-কর পরিশোধ করে সম্পত্তি ব্যবহার করে যাচ্ছেন।
বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, তাদের জমির পাশে পিপলস সিটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে কম দামে জমি কেনার চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। ওয়ারিশরা রাজি না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে নওগাঁ আমলী আদালতে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী পিপলস সিটির চেয়ারম্যান ও নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী আতিকুর রহমান। সন্তোষজনক তদন্ত ছাড়াই কিছু অনলাইন নিউজপোর্টালে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা তাঁদের সামাজিক মানহানি ঘটাচ্ছে—বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের পক্ষের সকল বৈধ কাগজপত্র, দলিল, নামজারি ও সরকারি নথি আছে। আমরা চাই সত্য প্রকাশ হোক এবং ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।’
অভিযোগের জবাবে পিপলস সিটির চেয়ারম্যান কাজী আতিকুর রহমান সংবাদকর্মীদের জানান, ওই ৪৫৪ দাগের মধ্যে তিনি দেওয়ান রেজাউল করিমের কাছ থেকে ৩৩ শতক জমি ক্রয় করেছেন এবং বায়নামা আছে ৪৮ শতক জমির জন্য। তিনি বলেন, ‘ওই দাগে যদি তারা জমি দাবি করে তাহলে আমারও সমস্যা হবে। তাই জমির কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখি রেজিস্ট্রেশন ও খারিজ সংক্রান্ত ঝামেলা রয়েছে।’
কাজী আতিকুর আরও অভিযোগ করে বলেন, যে দলিলের ভিত্তিতে ২২ জন ওয়ারিশের নামে খারিজ দেখানো হয়েছে, সেই দলিল ১৯৭২ সালে সম্পাদিত হলেও রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ১৯৭৩ সালে—আইন অনুযায়ী দলিল সম্পাদনের তিন মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এছাড়া ওই দলিলের সাব-রেজিস্ট্রারের দুটি স্বাক্ষর মেলে না; যাচাইয়ে মনে হয়েছে দলিল জালিয়াতি করে করা হয়েছে। এজন্য তিনি মামলা করেছেন এবং তদন্তে এক্সপার্ট যুক্ত করে সত্য উদঘাটন করার দাবি করেন। তিনি বলেন, যদি তদন্তে তাঁর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় তাহলে তার করা মামলা মিথ্যা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে দেওয়ান আব্দুস সালাম, নাতি দেওয়ান মনোয়ার ও দেওয়ান শহীদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে উভয়পক্ষ একই দাবি-হতচক্কিতে থাকা অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি-related কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই ভবিষ্যতে নির্ধারণ করবে।