শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেথলেহেমে ৩০ হেক্টর ফিলিস্তিনি জমি দখলের সামরিক আদেশ জারি

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের নিকটবর্তী জাবাল আল-ফুরিদিস এলাকার প্রায় ৩০ হেক্টর (৭৪ একর) ফিলিস্তিনি জমি দখলের একটি সামরিক আদেশ জারি করেছে বলে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি, একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে। ইসরায়েল বলছে, ওই এলাকায় একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের উন্নয়ন করা হবে—তবে ফিলিস্তিনি নেতারা এটিকে জমি অধিগ্রহণ ও ভবিষ্যতে বসতি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখে নিন্দা করেছেন।

ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান মোয়াদ শাবান বলেন, এই আদেশ ২০২৬ সালের শুরু থেকে কার্যকর হবে এবং এটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা তৃতীয় জমি অধিগ্রহণের আদেশ। শাবান অভিযোগ করেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক উন্নয়ন’কে অজুহাতে এসব উদ্যোগ শুধু একটি প্রকল্প নয়—এগুলি ফিলিস্তিনি জমির ওপর স্থায়ীভাবে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের লক্ষ্যে নেওয়া নীতিগত পদক্ষেপের অংশ।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে ওই এলাকার আশপাশের ১৭.১ হেক্টর (৪২ একর) জমি ইতোমধ্যেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় জমি হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছে। শাবান আরও সতর্ক করে বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর নাম নিয়ে এসব সিদ্ধান্ত শুধু ভূ-সংস্কৃতি রক্ষার আড়ালেই সীমাবদ্ধ নেই; এগুলো ভূখণ্ড পরিবর্তন ও বসতি বিস্তারের কৌশলগত প্রয়াসও বটে।

শাবান দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে বিপজ্জনক precedent স্থাপন করছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে ‘এরিয়া সি’ নামে পরিচিত পশ্চিম তীরের ওই অংশে ইসরায়েল আরও বেশি জমি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে এবং সেখানে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বাড়াতে উদগ্রীব।

১৯৯৫ সালের অসলো-২ চুক্তি অনুসারে অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ অঞ্চলকে ‘এরিয়া সি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রত্নতাত্ত্বিক উন্নয়নের আড়ালে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক লক্ষ্য প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এদিকে, ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, এবার ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সরকার এমন একটি পদক্ষেপ মঞ্জুর করেছে যা কর্তৃপক্ষকে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকাকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধন করার অনুমতি দেবে। এই সিদ্ধান্তও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হয় যে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি সহিংসতা তীব্রতর হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ মে পর্যন্ত এই সংঘর্ষে অন্তত ১,১৬৮ জন নিহত, ১২,৬৬৬ জন আহত, প্রায় ২৩,০০০ জন গ্রেপ্তার এবং প্রায় ৩৩,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই নতুন জমি অধিগ্রহণের আদেশকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি নেতারা বলছেন, নজিরবিহীন এই কৌশলগুলো যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যেতে পারে—যা জমি, অধিকার ও মানুষের বসবাসের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন