মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। গত বুধবার (৩ জুন) কোম্পানিটি মার্কিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) জমা দিয়েছে। তারা বাজার থেকে প্রায় ৭৫০০ কোটি ডলার তোলা আশা করছে, যা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিওর রেকর্ড গড়তে পারে।
সংস্থার আবেদনে বলা হয়েছে প্রতিটি শেয়ারের দাম ধরা হয়েছে ১৩৫ ডলার এবং বাজারে ছাড়া হবে প্রায় ৫৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি শেয়ার। এই নির্ধারিত লক্ষ্য সফল হলে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার — যা বৈশ্বিক করপোরেট জগতে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১২ জুনের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি স্পেসএক্স তাদের লক্ষ্য অর্জন করে, এটি ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর করা ২৫৬০ কোটি ডলারের আইপিওর রেকর্ডও ভেঙে দেবে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার কাহিনি বেড়ে ওঠার মতোই আধুনিক মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসের অংশ। ২০০২ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ইলন মাস্ক স্পেসএক্স শুরু করেন—লক্ষ্য ছিল মানুষকে অন্য গ্রহে পাঠানো ও মঙ্গলগ্রহে বসতি স্থাপন। কোম্পানিটি শুরুতে একাধিক ব্যর্থ উৎক্ষেপনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল এবং কঠোর আর্থিক চাপ সামলাতে হয়েছিল। তবুও ২০০৮ সালে ‘ফ্যালকন-১’ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ স্পেসএক্সকে ফিরে দাঁড় করায় এবং আধুনিক বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে তাদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে।
বর্তমানে স্পেসএক্সকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়। আংশিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ডিজাইন করে তারা মহাকাশসংক্রান্ত ভ্রমণের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে এবং নাসা-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে। স্পেসএক্সই প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রসদ ও মানব পাঠিয়েছে। এছাড়া ‘স্টারলিংক’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে এবং ‘স্টারশিপ’ প্রকল্পে সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বড় রকেট তৈরি করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
এই আইপিও কেবলমাত্র ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত বা কোম্পানির জন্য বড় একটি আর্থিক ঘটনা নয়—এটি বেসরকারি মহাকাশ খাতের অর্থনৈতিক শক্তি নিরূপণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এখন স্পেসএক্সের উন্নত প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অংশ নিতে পারলে, প্রতিষ্ঠানটি কতদূর এগোতে পারে তা দেখার বিষয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্পেসএক্সের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রযুক্তি সংস্থাকে বৃহৎ মাত্রার বিনিয়োগ আকর্ষণের সাহস যোগাবে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নতুন গতিসঞ্চার করবে।