দেশজুড়ে গত কয়েক দিনের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের কারণে মানব জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে অস্থির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা সহ অন্তত ৪১টি জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদ আর গরম বাতাসের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও রাস্তার ব্যবসায়ীরা। জীবিকার তাগিদে গরমে বের হতে হচ্ছে তাদেরকে, যার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং আয় কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক দুর্দশাও They’ve জড়িয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই তাপপ্রবাহ আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নাগাদ কিছুটা কমে আসবে। বুধবার (৩ জুন) সরকারি সূত্রে জানানো হয়, আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধিদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা সহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা, রংপুর বিভাগের ৮ জেলা এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলমান থাকছে। এসব অঞ্চলগুলোতে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, বৃষ্টি হলে কিছুটা তাপমাত্রা কমে আসবে। তবে বৃহস্পতিবারও দেশের বেশিরভাগ এলাকায় এই তাপপ্রবাহ থাকবে। শুক্রবার থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কিছুটা কমার আশ্বাস দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগে কিছু কিছু স্থানে ঝড়ো হাওয়ার সাথে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে এ জেলাগুলোতে তাপপ্রবাহ এবং গরমের কারণে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
রাজশাহী এলাকায় তাপদাহের প্রভাব মারাত্মক আকারে দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই গরমে সাধারণ মানুষ সমস্যা নেমে এসেছে। শীতল বাতাসের অভাবে অসুস্থতার সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন।
প্রথম দিন থেকেই তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রায় থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। মারাত্মক গরমে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া, পানিসংকটসহ নানা রোগের আশঙ্কা বাড়ছে, তাই চিকিৎসকরা সতর্কবার্তা দিয়ে থাকছেন।
জনজীবনে এই তাপদাহের প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে, দিনমজুর, রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষসহ সব পেশার মানুষের দুর্বিষহ জীবন শুরু হয়েছে। কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের প্রবল তাপে তারা কাজ করতে পারছেন না। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কাজের জন্য রোদে থাকতে গিয়ে তারা শারীরিক ক্লান্তি ও অসুস্থতা অনেকটাই বাড়িয়ে ফেলছেন।
জীবননগর (চুয়াড়াঙ্গা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সোমবার এবং মঙ্গলবার ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে চলার কারণে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দুপুরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহনের চলাচল কমে গেছে। শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশা চালক ও দিনমজুররাও বেশি কষ্টে আছেন। তারা গাছের ছায়া বা শীতল স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার দুপুর ৩টায় এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিবর্তনের কারণে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই তাপপ্রবাহ কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যসুরক্ষায় হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়া, ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা, পর্যাপ্ত পানি ও ঠাণ্ডা পানীয় পান করা, এবং শিশু ও বয়স্ক মানুষের বিশেষ যত্ন নেয়া জরুরি।