চরফ্যাশনের নতুন ২৩০-৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার (GIS) উপকেন্দ্রটি শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শেষ হয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও এখানকার মানুষ এখনও আলো পাচ্ছেন না। ওজোপাডিকো ও ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এই আধুনিক গ্রিড চালু করা সম্ভব হয়নি, ফলে গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং ও ভোল্টেজ সমস্যার তীব্রতা বেড়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) অবশ্য দাবি করেছে, উপকেন্দ্রটি কমিশনিং সম্পন্ন হয়ে সরবরাহের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বরিশাল অনুবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিত উপকেন্দ্রটি গত ২৩ মে সফলভাবে কমিশনিং হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এখন এটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
পিজিসিবি সূত্রে জানা যায়, একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো লোড গ্রহণে গড়িমসি করছে। চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, দ্রুত বিদ্যুৎ গ্রহণ না করলে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংয়ের দায় কোনোভাবেই পাওয়ার গ্রিড বহন করবে না। একই সঙ্গে বিতরণদাতাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, নতুন এই উপকেন্দ্র চালু হলে চরফ্যাশনের দীর্ঘ দিনের স্বল্প ভোল্টেজ ও ঘাটতির সমস্যার স্থায়ী সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। তবুও গ্রিড প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে দোকান-ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি জীবন থমকে যাচ্ছে।
চরফ্যাশন বাজারের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বললেন, নতুন গ্রিড আছে শুনেছি, কিন্তু আমরা প্রতিদিন বিদ্যুৎবিহীনতায় দমবন্ধ করছি। এত বড় প্রকল্পের টাকা খরচ করে যদি সাধারণ মানুষ সুফল না পায়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে কেন এই প্রকল্প করা হলো।
ওজোপাডিকোর বরিশাল শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহ্ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিডের চিঠি আমরা পেয়েছি। আমাদের কারিগরি দল কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই এই সমস্যা সমাধান হবে।’
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি তহবিল থেকে বিপুল অর্থ দিয়ে নির্মিত সাজানো গ্রিড যদি প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা ও বিতরণশৃঙ্খলা না থাকায় একপাশে পড়ে থাকে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি করছেন—জরুরি ভিত্তিতে সব প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা দ্রুত দূর করে নতুন গ্রিড থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোলা অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা সচল থাকে এবং জনদুর্ভোগ কমে।
স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও বাধ্যমূলক সমন্বয় বৈঠকের আহ্বান জানাতে পারেন, যাতে ওজোপাডিকো, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও পাওয়ার গ্রিডের মধ্যে দ্রুত সমাধান ঘটে। সাধারণ মানুষ আশা করছে—অল্প সময়েই লো-ভোল্টেজ ও লোডশেডিংয়ের কষ্ট থেকে তারা মুক্তি পাবে এবং শহরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরে আসবে।