নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে দাপট দেখানোর পরেও ইংল্যান্ড শিবিরে নতুন বিতর্ক ছড়াল। ম্যাচের পর রাতে একটি নাইটক্লাবে গিয়ে বিদ্ধতা ও দফায় দফায় যে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে জড়িয়েছেন দলের নিয়মিত অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং পেসার গাস অ্যাটকিনসন। ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের ‘দলের প্রটোকল লঙ্ঘন’ ও হাতাহাতির অভিযোগে ঘিরে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, উভয় খেলোয়াড়কে তৎক্ষণাৎ দ্বিতীয় টেস্টের দলে রাখা হয়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। স্টোকস অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় টেস্টে নেতৃত্ব দেবার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন জো রুট—এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো বলছে, প্রথম টেস্টের শেষে দলীয় সদস্যরা স্থানীয় এক নাইটক্লাবে ছিলেন এবং সেখানে সারাসেন্স রাগবি ক্লাবের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে স্টোকস ও অ্যাটকিনসনকে হাতাহাতিতে জড়াতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ায় বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টের নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
ইসিবি জানিয়েছে, তারা ঘটনার সময় ও অভিযুক্তদের উপস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসা করছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বোর্ডের তদন্ত চলার সময় দুই ক্রিকেটারের দলবছর ও টেস্ট দলে অবস্থা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত রাখা হবে না।
নাইটক্লাব কেন্দ্রিক বিতর্কে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে–অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের আগের রাতে যাওয়া নিয়ে হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেলও আলোচনার সৃষ্টি করেছিলেন। ওই ঘটনায় ব্রুক একজন নিরাপত্তার কর্মীর সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন; পরে তদন্তে প্রকাশ পায় যে তার সঙ্গে জ্যাকব বেথেল ও ফাস্ট বোলার জশ টাংও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরে তারা আচরণবিধি ভঙ্গের দায় স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা পান এবং ব্রুককে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়।
আর ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিস্টলের একটি নাইটক্লাবের বাইরে মারামারির ঘটনায় বেন স্টোকসকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল; তখন তিনি দাবি করেছিলেন তিনি একজনকে রক্ষা করতে গিয়ে ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল।
বর্তমান ঘটনায় ইসিবি ব্যবস্থাপনা ও তদন্তে কী সিদ্ধান্ত নেবে এবং তা দলের নির্বাচনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। দৃশ্যত ইংল্যান্ড সময়োপযোগী ও কঠোর তদন্ত করে দফায় দফায় দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চান—এটি আগামী нескольких দিনের মধ্যে পরিষ্কার হবে।