সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’: একাংশ রূপ বদলেছে, একাংশ পালিয়ে গেছে — গোলাম মাওলা রনি

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি সম্প্রতি একটি ফেসবুক ভিডিও বার্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাস মেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ওই সময়ে ক্ষমতার বাইরে নয়—ক্ষমতার মধ্যেবাসে একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। তিনি সেই গোষ্ঠীকে উপমা দিয়ে ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও আর্থিক লেনদেনের বিবরণ হাজির করেছেন।

রনি বিবরণ দিয়েছেন, এই ‘কোম্পানি’ মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথমত, শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় ধরনের সুবিধা আদায় করেছিল। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বিভাগের এমন কিছু সদস্য—কয়েকজনের বাড়ি চট্টগ্রামে এবং অনেকে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কযুক্ত ছিলেন। তৃতীয়ত, এনজিও ও ব্যাংকিং খাতে এক বিস্তৃত চক্র যা নানান জরিপ বা রিপোর্টের আড়ালে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অর্থনীতি নিয়ে রনির সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বিদেশি ঋণের হঠাৎ বর্ধন। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের সময় যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, ইউনের সময়ে তা ১৮ মাসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। অতিরিক্ত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকার ব্যবহার কোথায় হয়েছে—সে প্রশ্ন তিনি উত্থাপন করেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বড় বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ মওকুফ, রিশিডিউল এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুকূল শর্তে অর্থ সরবরাহ করে নানা সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যাপকভাবে হন্তাৎ করা হয়েছে। এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে দাবি করে রনি বলেন, তবু বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কাজ বা পাবলিক ওয়ার্কসে তা প্রতিফলিত হয়নি।

ভিডিওর শেষভাগে রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথাও ছুঁয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা কালে তারা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও অপমানিত করার মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতেন—ফলে এখন তাদের কাছে কোনো ‘মোরাল করেজ’ রয়ে যায়নি। এ কারণেই, রনির দাবি, ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ নামে যে গোষ্ঠী গড়েছিল, তার একটি বড় অংশ নিজেদের চেহারা বদলে বর্তমানে তারেক রহমানের সরকারকে সঙ্গে সমঝোতা বা একীভূত করেছে; কিছু অংশ চেহারা লুকিয়ে আছে এবং বাকি অনেকে বিচার এড়াতে দেশের বাইরে পলায়ন করেছেন।

রনির এসব অভিযোগ সম্পর্কে অন্য পক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি; তিনি ভিডিওতে একের পর এক অর্থনৈতিক ও নীতিগত অনিয়মের নানা দফতর তুলে ধরেছেন এবং এগুলো তদন্তের দাবি জানান।

পোস্টটি শেয়ার করুন