সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলন মাস্ক: বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’

রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইলন মাস্ক ইতিহাস গড়ে দিয়েছেন—ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী তাঁর সম্পদ এখন বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ স্তরে পৌঁছেছে। প্রযুক্তি খাতের এই একক সম্পদ বৃদ্ধিকে অনেকেই আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে বৈষম্যের চরম উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

ফোর্বস জানায়, স্পেসএক্সের আইপিওর পর মাস্কের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারে; চলতি বছরের জুনের বিনিময় হারে এটি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২৩ লাখ কোটি টাকার সমপর্যায়ে দাঁড়ায়। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ এক ব্যক্তির মালিকানায় আসা আগে কেবল দেশের জিডিপি বা লোকবহুল ঋণের ক্ষেত্রে দেখা যেত।

এক ট্রিলিয়ন সংখ্যার কল্পনাও সহজ নয় — ১-এর পরে ১২টি শূন্য। যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের নোটগুলো একটার পর একটা লম্বালম্বিভাবে সাজানো হত, তা প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতো, যা চাঁদে যেতে প্রায় ২০০ বার দৌড়ানোর সমান এবং পৃথিবী-সূর্য দূরত্ব কেঁদিয়ে ছাড়িয়ে যায়।

ইউএস সেনসাস ব্যুরো অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রায় ৮২০ কোটি (৮.২ বিলিয়ন) মানুষ বসবাস করছে। এই এক ট্রিলিয়ন ডলার যদি সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হতো, প্রত্যেকে পেত মাত্র প্রায় ১২২ ডলার — বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার মতো। তুলনায় মাস্কের সম্পদ তার জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ষিক জিডিপিরও দ্বিগুণের বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর মাত্র ২১টি দেশই এক ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অতিক্রম করেছে।

প্রয়োগগত প্রদর্শনীতে দেখা যায়, এই সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৫ লাখ মধ্যমানের বাড়ি একবারই কেনা সম্ভব। জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব চোখে পড়ে—বর্তমান দাম হিসাব করলে এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে কোটি কোটি গ্যালন তেল কেনা যায়, যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বহর কয়েক বছর চালানা সম্ভব বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি দামের গড় প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে।

সম্পদের দৌড়ে মাস্ক তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বিপুলভাবে এগিয়ে আছেন। ফোর্বসের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের থেকে মাস্ক প্রায় ৭০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার (প্রায় ৭০৬ বিলিয়ন ডলার) বেশি সম্পদশালী। এমনকি তালিকার পরবর্তী শীর্ষ চার ধনীর—ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, জেফ বেজোস ও ল্যারি এলিসন—মোট সম্পদ একসঙ্গে মিলেও মাস্কের একক সম্পদের কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয় না।

তবে এই মূল্যায়ন শেয়ারবাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল; সম্পদের পরিমাণ মুহূর্তে ওঠানামা করতে পারে। কিছু বছর আগে ২০২৪ সালে মাস্কের সম্পদ ছিল প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, আর স্পেসএক্সের আইপিওয়ের প্রেক্ষিতে তা দ্রুত বাড়ে এবং এখন এক ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে।

ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি ও প্রযুক্তির সফলতাকে অনেকেই উদযাপন করছেন, অন্যদিকে এই অস্বাভাবিক একক সম্পদের আবির্ভাব বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে নতুন বিতর্কও উস্কে দিয়েছে। যে প্রশ্নগুলো এখন বেশি জোরে উঠছে—কিভাবে বিতরণ, করনীতি ও সামাজিক ন্যায় বজায় রাখবে বিশ্ব—সেগুলোর উত্তর শান্তভাবে এবং কার্যকর নীতির মাধ্যমে খুঁজে বের করাই আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

পোস্টটি শেয়ার করুন