সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বদলের সিদ্ধান্তে এবিবির স্বাগত

বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সিদ্ধান্তের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র চেয়ারম্যানসহ বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভাঙার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এটি ব্যাংকিং খাতে সৃষ্টি হওয়া অস্থিরতা নিরসনে সময়োপযুক্ত ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ।

এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করান যে, বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নেওয়ার পর ১০ জুন এবিবি গভর্নরের কাছে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের ঘটনাটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; এর প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতে নিঃসন্দেহে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়াটা জরুরি ছিল, সেই দিকটি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ সময়োপযোগী।’’

এবিবি উল্লেখ করেছে যে, ইসলামী ব্যাংক একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানই নয়; এর প্রায় ৩০ মিলিয়ন গ্রাহক, বড় পরিমাণ আমানত এবং দেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে মিছিল-সমাবেশ ও গণআন্দোলন কেন্দ্রিক পরিস্থিতি ব্যাংকের পরিচালনায় অনিশ্চয়তা এবং তরল성 সংকট সৃষ্টি করেছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায়ও ফাটল তৈরি করেছে। সংগঠনটি বিশ্বাস করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হস্তক্ষেপ সেই উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হবে।

বিবৃতিতে এবিবি আশা প্রকাশ করেছে যে এই পরিবর্তনের ফলে ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরে আসবে এবং ব্যাংকিং ক্ষেত্র পুনরায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিষ্কার পরিবেশ পাবে। এছাড়া তারা আশাবাদী যে খেলাপি ঋণ আদায়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে, যা সামগ্রিকভাবে খাতের স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে।

একই সঙ্গে এবিবি সতর্ক করেছেন যে ব্যাংকিং সেক্টরে গণ-উৎপাত বা বিশৃঙ্খলা একটি বড় ঝুঁকি। এটি রোধ করা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি বিশেষ দায়িত্ব বলে সংগঠনের বক্তব্য, এবং সঠিক ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া সেক্টরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে।

সংগঠনটি জানিয়েছে যে তারা নিবিড়ভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ ও নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন