বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী যদি কখনো রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে, তারা আওয়ামী লীগের থেকেও আরও ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকার গঠন করবে এবং তখন কেউ নিরাপদ থাকবে না। শনিবার (১৩ জুন) রাতেই তিনি এই মন্তব্যটি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন।
রাশেদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্য়মে সম্প্রতি নিজের অ্যাকাউন্টে ঘটে যাওয়া একটি সাইবার আক্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জামায়াত-শিবিরের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, তাঁর লেখালেখির ফলে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না করেও ওই গোষ্ঠী ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং তাই তারা ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে তাঁর ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে ভুয়া কপিরাইট ক্লেইম করেছে।
তিনি বলেন, ‘‘তুরস্ক থেকে ১৬টিরও বেশি ভুয়া কপিরাইট ক্লেইম করে আমার আইডি আট দিন সাসপেন্ড করে দেয়া হয়েছিল। আট দিন পর পুনরায় পোস্ট করার সুযোগ পেলেও এসব অভিযোগ এখনও পুরোপুরি মিটেনি।’’ রাশেদ আরো দাবি করেন, তিনি যে কিছু গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেছিলেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো সংশ্লিষ্ট মিডিয়া পক্ষ থেকে আপত্তি জানায়নি; বরং তুরস্ক থেকে নিযুক্ত একটি লবিস্ট টিম এই কপিরাইট ক্লেইমগুলো করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে রাশেদ খান অভিযোগ করেন যে জামায়াত-শিবির ভিন্নমত শুনতে চায় না এবং তারা মতপ্রকাশ দমন করে। তাঁর মতে, তাঁর ব্যক্তিগত আইডিতে চালানো সাম্প্রতিক সাইবার আক্রমণ, পাশাপাশি তাঁর মা-বাবাকে গালিগালাজ করার ঘটনাগুলোই ওই দলের এমন নীতির বড় প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, ‘‘ওরা আমাকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার চেষ্টা করছে। আমার বিরুদ্ধে ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ গড়ে তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে—এটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’।’’
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘‘এই ধরনের ফ্যাসিস্টি মনোভাব সম্পন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে এখন থেকেই সোচ্চার না হলে ভবিষ্যতে তারা যদি কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় উঠে আসে, ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ তারা অত্যন্ত কঠোরভাবে নিতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করি।’’
রাশেদ খান সামাজিক মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জনগণকে সতর্ক থাকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সাহসী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।