মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে হামলা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ হবে: গালিবাফ

ইরান সতর্ক করেছে যে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা ভেঙে যেতে পারে। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, বৈরুতে ইসরায়েলি আক্রমণ দেখিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র হয় তার প্রতিশ্রুতি পালনে অনিচ্ছুক, নয়তো সক্ষমতা নেই।

গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ইচ্ছা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।’ তিনি বলেন, বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে নতুন করে হয়রানিমূলক আঘাত এটাই প্রমাণ করেছে।

একই সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি হুঁশিয়ারি দেন যে লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আক্রমণের ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়া হবে। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে তার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈরুতে দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে হওয়া বিমান হামলার জবাব দেওয়া হবে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির মাঝেই গত রোববার বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং পনেরো জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে লেবাননে ধারাবাহিকভাবে বোমা হামলা চালাচ্ছে এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর দখলে রেখেছে।

লেবাননের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ২ মার্চ থেকে চলমান এই হামলায় এখন পর্যন্ত তিন হাজার সাতশোরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় এগারো হাজার পাঁচশো জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

পরিস্থিতির মধ্যেই কাচাঘরীয় কূটনীতি তৎপর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি হচ্ছে, তা ওই রোববারই স্বাক্ষরিত হবে। তবে ইরান এই সময়সীমা মানতে দ্বিমত পোষণ করেছে এবং বলেছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও স্থির হয়নি।

বৈরুতের হামলার পর ট্রাম্প মন্তব্য করে বলেন, ‘আমরা যখন চুক্তির এত কাছাকাছি ছিলাম, তখন এই হামলা হওয়া উচিত ছিল না।’ তিনি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর প্রতি সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং ‘দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর শান্তি’ প্রত্যাশা জানান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন, বলেছেন চুক্তিটি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে।

ইরান বলছে, সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, নির্ধারিত সম্পদ মুক্ত করতে হবে এবং ইরানি বন্দরগুলোতে উপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে চাইছে।

উপসংহারে, সামরিক সহ চাপ এবং কূটনৈতিক আলোচনা একসঙ্গে চলার ফলে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। লড়াই থামলে শুধু মানবিক সঙ্কট কমবে না, বরং ব্যাপক কূটনৈতিক অগ্রগতির পথও খোলা থাকতে পারে—কিন্তু অন্তত এ মুহূর্তে দু পক্ষই শর্তসহ অবস্থান জানাচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন