বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিناطন জনসমাগমস্থল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থী, পথচারী, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই এলাকায় আসেন। এই কারণে, এলাকাটিকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও জনবান্ধব করে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পরিদর্শন শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য গণশৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় দর্শনার্থীরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জাতীয় সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে অবাধ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত জরুরি। তাই ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ী গণশৌচাগার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বের অন্যতম প্রতীকী স্থাপত্য নিদর্শন। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসেন সেখানে উপভোগ করতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তবে নানা স্থান দখলদারবিহীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংসদ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার অরুঢ় করে বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু দর্শনীয়তা বা সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে বর্ষাকালে জমে থাকা পানিপ্রবাহ, আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা মশার প্রজনন বাড়াতে পারে, ফলে ডেঙ্গুসহ নানা রোগের ভয় আরও বেড়ে যায়। অতএব, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে।
তিনি সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বর্জ্য অপসারণ ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পরিষ্কার ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া এভিনিউ ও সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকাকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষ, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ রোপণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এই উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং দর্শনার্থীদের জন্য মনোরম, ছায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
ডেপুটি স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সচিবালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় মানিক মিয়া এভিনিউকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহরের রূপ দিতে সম্ভব হবে।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।