জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার জোর দিয়ে বলেছেন, গাজার মানুষের উদ্দেশ্য শুধু বেঁচে থাকা নয়—তাদের হারানো মর্যাদাও ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ইসরাইলি বাধার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই দাবি তোলেন, যা বার্তা সংস্থা এএফপি রিপোর্ট করেছে।
ফ্লেচার বলেন, ১০ অক্টোবরের পর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ফলে ত্রাণবাহী যানবাহনের প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে এবং বর্তমানে গাজার প্রতি দিন গড়ে প্রায় ১০০টি ট্রাক ঢুকছে। তবে তিনি সঙ্গে বলেন, এটি সেখানে বসবাসকারীদের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। আন্তর্জাতিক আইনের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাতে পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া এখনো হয়নি—এটাই তার স্পষ্টবার্তা।
মানবিক সংকটের মর্মান্তিক ছবি তুলে ধরে ফ্লেচার বলেন, ‘‘শুধু বাঁচিয়ে রাখা যথেষ্ট নয়। একটি সভ্য বিশ্বে শিশুরা বেঁচে থাকলেও যদি তারা ক্ষুধার্ত থাকে, ইঁদুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়, গৃহহীন থাকে ও স্কুলের বাইরে থেকে যায়—অন্তত তা পৃথিবীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা হতে পারে না।’’ তার কথায়, শান্তি কেবল অস্ত্রবিরতি নয়; মানুষের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করাও সমানভাবে জরুরি।
তিনি গাজার সব প্রবেশপথ অবিলম্বে খুলে দেওয়ার জোর আবেদন জানান এবং বিশেষ করে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানি যোগান দেয়ার ওপর থাকা বিধিনিষেধ দ্রুত তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। একই সভায় এনজিও অক্সফামের মানবিক কর্মকর্তা বুশরা খালিদিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ‘সাহসী ও মানবিক’ পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
বক্তব্যগুলোতে উঠে এসেছে যে গাজার সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্ববান হয়ে কাজ করতে হবে—শুধু সহানুভূতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।