নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রবিবার সকালে (১৯ জুন) একটি রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে দুই ঘণ্টার মধ্যেই শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভ চলাকালীন সময় কারখানার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ জন স্টাফকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ ওঠানামা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সকাল ৯টার দিকে পাগলা তালতলা এলাকায় থাকা ‘নির্ঝর নিটওয়্যার গার্মেন্টসে’ আচমকা বয়লার বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয় এবং পরে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়ে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন।
আহতদের নাম ও বয়স হলো: শাহীন (২৫), জাকির হোসেন (২৫), সাবিনা বেগম (৩৪) — যিনি ক্লিনার হিসেবে কাজ করতেন এবং অন্তঃসত্ত্বা, মঞ্জু মিয়া (২৮), আরিফিন (২২), হৃদয় (২৭) ও খাদিজা (২০)।
কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে বয়লারটি দীর্ঘদিন থেকে পুরনো অবস্থায় ছিল এবং বারবার মালিকপক্ষকে বদলানোর জন্য অনুরোধ করেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাদের দাবি, অর্থনৈতিক কারণ দেখিয়ে মালিক তাৎক্ষণিকভাবে বয়লার পরিবর্তন করেননি, ফলে শুক্রবার সকালে বয়লারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায় এবং ওই সাতজন আহত হন।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘‘শ্রমিকদের শোক ও দাবিগুলো যদি আগে হলেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হত, তাহলে এমন দুর্ঘটনা আটকানো সম্ভব ছিল।’’ তিনি জানান, মালিকপক্ষ ইতিমধ্যে বয়লার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই বিষয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আপাতত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা হয়েছে।
কারখানায় মোট প্রায় ৪০০ জন শ্রমিক ও মাত্র ৫০ জন স্টাফ কাজ করতেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ শ্রমিক কাজে ফিরেছে। পুলিশ ঐ এলাকায় উত্তেজনা রোধে উপস্থিত ছিল এবং ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।