রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনী কাজে পারদর্শী হতে হবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দিক থেকে শিশুর সম্পূর্ণ বিকাশের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শুধু খেলাধুলা করলেই চলবে না, পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা এবং উদ্ভাবনী কাজেও স্বচ্ছন্দ হতে হবে। এই সব ক্ষমতা অর্জনই হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মূল চাবিকাঠি, কারণ তোমরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব নিয়ে আসবে। শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’’ এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বহু দিক থেকে প্রতিভা বিকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি গান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, কবিতা আবৃত্তি, কোরআন ও কেরাতের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী কাজে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আমরা সকলে সব ক্ষেত্রে পারদর্শী হতে পারি, তাহলে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শিশুদের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান আরও বলেন, আপনি যারা আজ খেলছেন বা গ্যালারিতে অবস্থান করছেন, আপনিই এই দেশের আসল ভবিষ্যৎ। আমরা যারা বড় হয়ে যাচ্ছি, আমাদের সময় শেষ হয়ে আসছে। নিজেকে প্রস্তুত করে আপনাকেই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে হবে এবং আমাদের চেয়েও ভালোভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বললেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্ব ক্রিকেটের পরিচিত একটি দেশ, তবে ভবিষ্যতে আমরা ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ অন্যান্য খেলায়ও বিশ্বমঞ্চে নিজেকে উপস্থিত করে দেখাব। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনি হয়তো আজ এই মাঠের খেলোয়াড়, কিন্তু কাল আপনারাই হয়ে উঠবেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মুখ।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে শুধু দেশের আঙিনার মধ্যে নয়, বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করতে চাইছে। এরই মধ্যে ক্রিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে পরিচিত হলেও ভবিষ্যতে ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের ক্রীড়ায় বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন অলিম্পিক, যেখানে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য অর্জন আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।

ক্রীড়া প্রসারে নতুন উদ্যোগের দাবি করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত দেড় মাসে সারাদেশে এই টুর্নামেন্টে প্রায় ২২ লাখ শিশু অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতে মাধ্যমিক স্কুলেও এই ধরনের গেম চালু করা হবে। সে সঙ্গে এই বছর থেকে মাধ্যমিক এবং বছর পর থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘‘প্রাইম মিনিস্টারস কাপ’’ শুরু করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য সবুজ ময়দান তৈরি ও নতুন নতুন মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে শিশুদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ আরও বাড়ে।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়, অধিনায়কদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়াও এই টুর্নামেন্টের সাফল্যের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

এবারের টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয় ময়মনসিংহের ত্রিশালের দড়িররামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আউচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সবচেয়ে বেশি গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) পুরস্কার জিতেছেন বরিশালের আবু রেদওয়ান, আর সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার গেছে শাহাদাত ইসলামকে। বালিকা বিভাগে এই পুরস্কার জিতেছেন নান্দাইলের পরশমনি ও সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্ধারিত হয়েছেন পাবনার মোসাম্মৎ মারিয়া খাতুন।

অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টের পরিচালনায় যুক্ত রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারদেরও সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পোস্টটি শেয়ার করুন